গৃহবন্দি খালেদা কোনঠাসা ১৮ দল

0
50
Print Friendly, PDF & Email

“বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে ‘কোনঠাসা’ করে তাকে নেতৃত্বহীন করার জন্যেই কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে।” এর ফল ভালে হবে না-হুশিয়ার করে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন,সরকার এক তরফা নির্বাচনের যে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে তা বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।

৮৪ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিনে নয়া পল্টন এলাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হতাশার সুরে বলছিলেন, গত দু’দিন ধরে নিজের দল এবং জোটের নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো যোগাযোগ নেই।

পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে তার গুলশানের বাস ভবনটি। শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ নেতা গ্রেফতারের পর দলের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাই গা ঢাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি নিজেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।

দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রকাশ্যে থাকলেও তার কর্মকান্ড টেলিভিশন সাক্ষাৎকার-এ সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। শঙ্কা, সংশয় আর নিরাপত্তহীনতার মধ্যে চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) দু’টি কার্যালয়।

দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রিয় কার্যালয় কার্যত অবরূদ্ধ। রোববার সকালে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। আর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়তো শুক্রবারের পর থেকেই নিস্প্রান। একই অবস্থা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনেও। সেখানেও পুলিশের একচ্ছত্র আধিপত্য আর সতর্ক দৃষ্টি।

পুলিশ শুক্রবার থেকে বাসভবনটি ঘিরে রাখলেও মহিলা পুলিশের একটি দল মোতায়েন করা হয় শনিবার দুপুরে। তখনই নানা মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল খালেদা জিয়াকে কি গ্রেপ্তার করা হবে? তিনি কি অবরুদ্ধ? না তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে-ইত্যাদি।

রোববার রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী খালেদা জিয়া ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় আছেন। কিন্তু একথা মানতে নারাজ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। স্বারষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে এটা তেমন কিছু নয়- বিরোধী দলীয় নেত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার নিরাপত্তা একটু বড়ানো হয়েছে মাত্র।

অথচ গত দু’দিনে ঐ বাসভবনে প্রবেশের ব্যাপারে যে কড়াকড়ি চলছে তার প্রধান শিকার হচ্ছেন বিএনপি’র নেতারা। তারা যে আশপাশে গেলেই গ্রেপ্তার হবেন সেটা স্পষ্ট। তাই ওদিকে পা রাখছেন না কেউ। শুধুমাত্র সাংবাদিক এবং শিক্ষকদের দু’টি পৃথক দল দেখা করতে পেরেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে।

শুক্রবার এমনই দেখা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এরপর থেকে বিএনপি’র কোনো নেতা আর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।

নিকট আত্মীয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছাড়া আর কাউকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা খাবার-দাবার নিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী মাঝে মধ্যে ঐ বাড়িতে আসা যাওয়া করতে পারছেন।

সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিরোধীদলীয় নেতার ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ পুলিশ-র‌্যাব অবস্থান নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অবস্থানের কারণে ওই বাড়ির সামনে গণমাধ্যমকর্মীরাও ভিড় করে আছেন গত দু’দিন ধরে।

শেয়ার করুন