সরকারের কাছে গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশা করছি: শত নাগরিক

0
64
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের মুক্তি ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ অপসারণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের বৃহত্তম সংগঠন ‘শত নাগরিক’।

‘শত নাগরিক’ জাতীয় কমিটি সদস্য সচিব কবি আবদুল হাই শিকদার শনিবার রাতে পাঠানো এ বিবৃতিতে গণতন্ত্রের যাত্রাকে চলমান রাখতে বিরোধী দলের প্রতি সরকারকে গণতান্ত্রিক আচরণেরও উদাত্ত আহ্বান জানান।

‘শত নাগরিক’ বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলসহ বিরোধী দলগুলো যখন আন্দোলনে নেমেছে সেই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে স্বৈরাশাসকদের মতো বেছে নিয়েছে দমন পীড়নের নিষ্ঠুর পথ।

এর ফলে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা, অস্থিরতা ও হানাহানি। ভয়াবহজনকভাবে উত্তপ্ত -সংঘাত -সংক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে দেশের রাজনীতি। এ অবস্থায় অসত্য অজুহাতে দেশের বর্ষীয়ান জননেতাদের গ্রেফতার করে সরকার অগ্নিগর্ভ চুল্লিতে অনেকটা ঘি ঢেলে দিয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, দেশের জনজীবন আজ যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তেমনি কষ্টার্জিত গণতন্ত্রের ভবিষ্যত হুমকির সম্মুখীন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়েছে তেমনি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জাতীয় অর্থনীতি।

সরকারের প্রতি হিংসাত্মক দমন নির্যাতনের পথ পরিহার করার জোর দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আমরা মনে করি এখনো সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধার করা সম্ভব। এর জন্য শুধু দরকার সরকারের পূর্ণ সদ্দিচ্ছা। সরকার যদি সত্যিকারের দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে আমারা আশা করি বিরোধী দলগুলো তাতে সাড়া দেবে। কিন্তু তা না করে সরকার যদি তাদের বর্তমান হয়রানি ও আগ্রাসী ভূমিকা বজায় রাখে তাহলে দেশজুড়ে যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তার সকল দায় সরকারের উপরেই বর্তাবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অবিলম্বে ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও শিমুল বিশ্বাস সহ নির্দলীয় সকারের প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের মুক্তি দাবি করছি। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বাসগৃহের চারপাশে যে পুলিশি বেড়াজাল ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার অপসারণ দাবি করছি। আমরা হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সংঘাত হানাহানির বিরুদ্ধে। সেজন্য সবসময়ই একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যত যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করার জন্য সরকারের কাছে শুভবুদ্ধি প্রত্যাশা করছি।

বিবৃতিদাতারা হলেন-প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, ড. মাহবুব উল্লাহ, মোহাম্মদ আসাফউদদৌলা, ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিয়া, ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান, শফিক রেহমান, মাহফুজ উল্লাহ, ড. পিয়াস করিম, ড. মুশতাহিদুর রহমান, ড. জিন্নাতুননেসা তাহমিদা খাতুন, এ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, রুহুল আমিন গাজী, ডা, এসএম জাফরুল্লাহ, ড. সদরুল আমিন, ড. ইউসুফ হায়দার, সৈয়দ কামাল উদ্দীন, কামাল উদ্দিন সবুজ, কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমদ, তাজমেরী এস ইসলাম, ড. আতহার আলী,ড. তাহমিনা ইসলাম টফি, ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন,চাষী নজরুল ইসলাম, ড. শাহেদা রফিক, ড, সুকোমল বড়ূয়া ও ড. মামুন আহমেদ।

শেয়ার করুন