কূটনৈতিক পাড়ায় ‘আত্মগোপনে’ মির্জা ফখরুল!

0
85
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি’র প্রথম সারির পাঁচ নেতা গ্রেফতারের পর আত্মগোপনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন এখন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকা এসব নেতার কেউ কেউ এখন অবস্থান করছেন কুটনৈতিক পাড়ায়। আর কূটনীতিকদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন তারা। এজন্যে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের কনস্যুলারের অফিস কাম বাসায় অবস্থান করছেন বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতা।

কুটনৈতিক সূত্র মতে, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে এখন বড় ভূমিকা রয়েছে আমেরিকা এবং ভারতের। আগামী নির্বাচন এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আমেরিকা এবং ভারত ‘বোঝাপড়ায়’ আসলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করেন সূত্রগুলো। কারণ দু`টি দেশেরই বাংলাদেশ নিয়ে স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

অন্যদিকে, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশী কুটনীতিকগণ। বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা গ্রেফতার হওয়ায় রাজনৈতিক সংঘাত আসন্ন বলেও মনে করেছেন তারা।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা সব দলকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে হাঁটতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকায় নিযুক্ত বৃটেনের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মাঝে গঠনমূলক সংলাপের পরিবর্তে অব্যাহতভাবে সংঘাতমূলক কার্যক্রম দেখতে হচ্ছে। এটি আমাকে হতাশ করেছে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন বড় দু’টি রাজনৈতিক দল সংলাপের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।”

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর বৃটিশ হাইকমিশনার তার এই উদ্বেগের কথা জানান।

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দু`একদিনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া,ভারত এবং চীন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানিয়েছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব দেশের কূটনীতিকরাও আগে থেকেই তাদের সক্রিয় মতামত জানিয়ে আসছেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ প্রথম থেকেই চেষ্টা করছে বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার। এনিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব দুই নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন। এছাড়া মহাসচিবের বিশেষ দূত ঢাকায় এসেও দুই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু দুই নেত্রীর ফোনালাপের পর পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আশা থাকলেও হয়েছে তার উল্টো।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মাঈনুল আলম জানান, ‘‘বাংলাদেশে সবদলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নানভাবেই সক্রিয় আছেন বিদেশি কূটনীতিকগণ। তাদের এই তৎপরতা থামেনি।“

বিরোধী পাঁচ নেতাকে আটকের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকগণ হতাশা প্রকাশ করলেও সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তারা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেই মনে করেন আলম। তার মতে, তাদের সেই প্রচেষ্টার ফল অল্প সময়ের মধ্যেই আরো স্পষ্ট হবে।

শেয়ার করুন