আটক শীর্ষ ৫ নেতাই আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন!

0
52
Print Friendly, PDF & Email

নির্ব‍াচনী মাঠে নতুন ছক পেতেছে আওয়ামী লীগ। আর এছকেই আটক হয়েছেন বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতা। বিএনপিতে আওয়ামী লীগের অনুচর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই পাঁচ নেতা। সম্প্রতি তারা দলে কোণঠাসা হওয়ার পর পরই তাদের আটক করে নতুন এই পরিকল্পনা আটে সরকার। এমন দাবি বিএনপির একাধিক সূত্রের।

শুক্রবার আটক করা হয় বিএনপির শীর্ষ নেতা মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও শিমুল বিশ্বাসকে। অতীত ইতিহাস বলে তারা বরাবরই আওয়ামী ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রাজনীতিতে। কেউ কেউ সরাসরি ছিল আওয়ামী লীগের সাথে জড়িতও। চলমান রাজনীতিতে হঠাৎ করেই তাদের আটকের পর আলোচনার খোড়াক হয়েছেন তারা। শুরু হয়েছে তাদের অতীত নিয়েও আলোচনা। বিএনপির মাঠ ময়দান কাপানো এত নেতা থাকতে তারা কেন গ্রেফতার হলেন- এ প্রশ্নটি এখন আলোচনার শীর্ষে।

 

ব্যারিষ্টার মওদুদ আহেমদ :  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিএস ছিলেন ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। স্বাধীনতার পর একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাদে প্রায় প্রতিটি সরকারের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে দল ছাড়ার গুজব  চলছিল বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। শোনা যাচ্ছিল সরকারের সাথে আতাত করে তিনি নতুন দল গড়ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ব্যারিষ্টার মওদুদ ও তথ্যমন্ত্রী ইনু অন্তরঙ্গ আলোচনায় ব্যস্তও ছিলেন  সোনারগাওঁ এর এক অনুষ্ঠানে। এ সময় উল্লসিত ছিলেন দুই জনই। অনুষ্ঠান থেকে বের হলেই তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এসময় হাসি মুখে উঠে যান পুলিশের গাড়িতে।

এম কে আনোয়ার : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এমকে আনোয়ার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই স্নেহভাজন ঘনিষ্ঠ আমলা। ৯০ সালের সচিব এম কে আনোয়ার অবসরে যাবার পর প্রথমে যান আওয়ামী লীগে যোগদান করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে এমপি নির্বাচনে টিকিট না দেয়ায় যোগ দেন বিএনপিতে। তার পারিবারিক পরিচয় আওয়ামী লীগার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা উঠে সরকারের সাথে আতাত করে চলছেন তিনি।  শোনা যায় বিএনপি ভেঙ্গে নতুন রাজিনৈতিক দলের জন্ম দিয়ে সেখান থেকেই অংশ নিবেন আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচনে।  শুক্রবার রাতে নিজ বাসা থেকে এমকে আনোয়ারকে আটক করে পুলিশ।

ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া : স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া কুমিল্লার মানুয়। খ্যাতি রয়েছে আইন পেশায়। নিজ জেলা কুমিল্লায় শক্ত অবস্থান গড়তে না পেরে গায়ে মানে না আপনি মোড়ল হিসেবে রাজনীতি করছেন রাজধানীর পল্লবী এলাকায়। ২০১২ সালে দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে মোবাইল ফোন অন রাখায় হাতে নাতে ধরা খান দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে। রফিকের অপর প্রান্তের নাম্বারটি পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটা গণভবনের নাম্বার। তারপর থেকেই দলের কোণঠাসা হয়ে ছিলেন তিনি। আলোচনায় আসে তার আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার বিষয়টি। এরপর কিছুটা নিষ্কৃয় এই নেতা কিছু দিন লন্ডনে ঘন ঘন যাতায়াত করে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও সুবিধা না করতে পেরে চুপসে ছিলেন তিনি।  হঠাৎ করেই তাকে শুক্রবার এলিফেন্ট রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আবদুল আউয়াল মিন্টু : বেগম জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। রাজনীতিবিদ না হয়েও রাজনীতিতে তার অবস্থান বরাবরই শক্ত। আব্দুল আউয়াল মিন্টু – ৯৬ এ শেখ হাসিনার খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। আলোচনা আছে ৯৬ তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার নেপথ্য কারিগর ছিলেন দেশের শীর্ষ এই ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে দল ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা সিটিকরপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জের ধরে আওয়ামী লীগ ছাড়েন তিনি। আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেন বিএনপিতে। একসময় হয়ে উঠেন খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন। এ সুযোগ নিয়ে গুলশান অফিসে যাতায়াত করে সকল তথ্য ফাঁস করে দিতেন এমন অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সাথে আত্মীয়তা করেন তিনি। এনিয়ে কথা বলেন খোদ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও। এক বৈঠকে খালেদা জিয়া মিন্টুকে বলেন- দেশে আর আত্মীয়তা করার লোক পেলেন না? আওয়ামী লীগ প্রীতি ছাড়তে পারলেন না?

এড: শিমূল বিশ্বাস: সাবেক বামপন্থী ছাত্রনেতা এড : শিমূল বিশ্বাস বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী। এসরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে অনেক আলোচনা ছিল তাকে নিয়ে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা কলম সদৃশ্য ইলেক্ট্রনিক চিপযুক্ত কলম উদ্ধার করে। পরে তদন্ত কমিটি এর জন্য শিমূল বিশ্বাসকে দায়ি করে রিপোর্ট দেয়। কিন্ত শিমূল বিশ্বাস ওই সংস্থার লোকজন দিয়ে চাপ দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে দেননি বলে জানা যায়। এঘটনার পর শিমূল বিশ্বাসের আওয়ামী কানেকশনের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।

বিএনপির শীর্ষ এই পাঁচ নেতা আটকের পর দলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন- নির্ব‍াচনী মাঠে নতুন ছক পেতেছে আওয়ামী লীগ। আর এছকেই আটক হয়েছেন শীর্ষ ৫ নেতা। বিএনপিতে আওয়ামী লীগের অনুচর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই পাঁচ নেতাকে তাই আটক করা। তারা দাবি করেন, বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা এ গ্রেফতারে বেজাই খুশি।

শীর্ষ স্থানীয় এক নেতা বলেন, তারা যে সরকারী চর ছিল সবার কাছেই তা পরিস্কার ছিল। তিনি আরো বলেন, বিএনপির ত্যাগী নেতাদের গ্রেফতার করলে দেশ অচল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না সরকার এখনি কোন হার্ড লাইনে যাবে।

শেয়ার করুন