মামলার এজাহারে তাদের নাম নেই

0
54
Print Friendly, PDF & Email

যে দুটি মামলায় বিএনপির ৫ নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে মামলা দুটির এজাহারের কোথাও তাদের কারো নাম নেই। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ডের শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিএনপির ৫ নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এরপর তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে নেয়া হয়। তাদের একই সঙ্গে দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি মুলতবি করে আগামী ১৪ নভেম্বর বর্ধিত শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এছাড়া তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ডিবির (দক্ষিণ) উপ-পুলিশ কমিশনার কৃঞ্চ পদ রায়ের নির্দেশনায় তাদের আটক করে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিবি হেফাজতে রাখার পর জানানো হয় মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া পৃথক দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দুটি মামলায় তাদের হামলার নির্দেশ দাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিবি।

প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর নানা নাটকীয়তা শেষে বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতাকে ওই দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চলতি মাসের ৫ তারিখে রাজধানীর কমলাপুর থানায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপর বিএনপির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পৃথক এ দুটি ঘটনার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মেদ, ব্যবসায়ী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বিশেষ সহকারী সামছুল আলম শিমুল। তাই তাদের এ মামলায় পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশ দাতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে মামলা দুটির অভিযোগ ও এজাহার কপির কোথাও আটক বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়নি। এমনকি তাদের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবেও নাম লেখা হয়নি।

মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বাসায় ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের জড়ানোর প্রতিবাদে গত ২৪ এপ্রিল ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতকামীরা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে ৩ থেকে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যানবাহন ভাংচুর করে। এ সময় সংবাদ পেয়ে পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ সেখান থেকে ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার এসআই হুমায়ন কবির বাদী হয়ে বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করেন। ওই মামলার কোথাও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নাম উল্লেখ নেই আসামি হিসেবে। এমনকি হুকুমদাতা হিসেবেও তাদের নাম নেই।

অপরদিকে চলতি মাসের ৫ নভেম্বর বিএনপির ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের মধ্যে কমলাপুর রেল স্টেশনের দিকে পর পর ৪ থেকে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ দাবি করে হরতাল সমর্থকরা তাদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে হরতাল সমর্থকরা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার এসআই আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, হরতাল সমর্থক ধৃত ৮জনসহ ও পালিয়ে যাওয়া আরও ৪ জন মিলে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মামলায় ১৮ দলীয় জোটের ৭৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও আজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়। বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতার নাম বা নির্দেশ দাতা বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ নেই।

শেয়ার করুন