চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে কাদের মোল্লার পূর্ণাঙ্গ রায়

0
32
Print Friendly, PDF & Email

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- দিয়ে ঘোষিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন প্রকাশ হতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া এই রায় লেখার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে সুপ্রিমকোর্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আসামিপক্ষ এটি পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করতে পারবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা রিভিউর পক্ষেই মতামত দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মৃতুদ-েরপক্ষে চার বিচারপতির রায় লেখা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ভিন্নমত পোষণকারী একজন বিচারপতির রায়ের অংশ লেখাও প্রায় শেষ। ভিন্নমতের অংশটুকু লেখা এ সপ্তাহে শেষ হতে পারে। এরপর সব রায় একসঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশিত হবে পূর্ণাঙ্গ রায়। আপিল বিভাগের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপরই নির্ভর করছে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার বিষয়টি।

৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

আপিল বিভাগের দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়ে দেখা যায়, চারজন বিচারপতি আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের পক্ষে ছিলেন। আর একজন বিচারপতি তার ফাঁসির আদেশের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। অর্থাৎ কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের সঙ্গে তিনি একমত হতে পারেননি। সংক্ষিপ্ত রায় প্রদানের পরপরই চারজন বিচারপতি তাদের রায়ের অংশ লেখা শেষ করেছেন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চার বিচারপতির দেওয়া রায়ের অংশ দেখে ভিন্নমত পোষণকারী একজন বিচারপতি রায়ে তার অংশ লেখা প্রায় শেষ করেছেন। তবে চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় তার এ লেখা শেষ হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। ফলে মৃত্যুদ-দাতা চার বিচারপতির রায়ের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতির অংশ লেখা শেষ হলেই সব অংশ একসঙ্গে করে চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময়ে প্রকাশ হতে পারে পূর্ণাঙ্গ রায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপিল বিভাগের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপরই নির্ভর করছে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ কার্যকরের বিষয়টি । পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেতে যত দেরি হবে, তার ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শেষ হতেও তত দেরি হবে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) ও জেলকোড অনুযায়ী পরোয়ানা হাতে পাওয়ার ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার যে বিধান রয়েছে তার প্রয়োগ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। দেশের অনেক আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ এবং আপিল বিভাগের রুলস অনুযায়ী কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন করার অধিকার রয়েছে।

কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, রিভিউ করা কাদের মোল্লার সাংবিধানিক অধিকার। আবার সরকারের আইনমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একই সুরে বলেছেন, এ রায় রিভিউ করার কোনো সুযোগ পাবে না আসামিপক্ষ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এ মামলার বিচার হয়েছে একটি বিশেষ আইনের অধীনে। তাই সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদের অধীনে আপিল বিভাগের রায় রিভিউয়ের কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার স্থগিত রয়েছে।

শেয়ার করুন