নওগাঁর মান্দায় বহুল আলোচিত মামুন হত্যা

0
302
Print Friendly, PDF & Email

মোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দায় বহুল আলোচিত মামুন হত্যার ১মাস ২৬ দিন অতিক্রম হলেও মামলায় পুলিশ কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার ও এলাকা বাসির মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে৷ মামুনকে পরকিয়ার জের ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ এই হত্যাকান্ডের জন্য পুলিশের দ্বায়িত্ব হীনতাকেই, দায়ী করছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী৷ পাশাপাশি পুলিশের দুর্নিতিবাজ অর্থ লোভী কিছু সদ্যসের জন্য মান্দা থানায় খুন, জখম, চুরি-ডাকাতিসহ চলছে মাদকের ব্যবসা৷ মান্দা থানায় উত্‍কোচ ছাড়া কোন মামলা রেকড হয়না, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীরা জানান, কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা গুনতে হয় একটি মামলা রেকর্ড় করতে৷ এমনকি এই থানায় ৫জন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে৷ মামুন হত্যা ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের ফলে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে কতিপয় দুর্নিতি বাজ পুলিশ সদস্যরা৷
গত ১৪ই সেপ্টেম্বর রাতে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কালাচিতা গ্রামের জনৈক আরমানের ছেলে মামুন হত্যাকান্ড থেকে প্রানে বেঁচে যাওয়া মোশারফ, এক সাক্ষাতকারে এই প্রতিবেদককে জানায় ঐ মিশনে কমপক্ষে ১৬ জন জড়িত ছিল৷ তারা গোপালপুর বাজার থেকে রাত অনুমানিক সাড়ে নয়টার সময় মটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রম্নতার জের ধরে পার্শবর্তি কৈবারা গ্রামের তৈফর এর ছেলে তমিজ উদ্দীন তার শশুর আঃ সালাম এর বাড়ির নিকটে রাসত্মায়, সহোযোগিদের নিয়ে মামুনের মটর সাইকেলের গতিরোধ করে মামুনের মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে৷ এসময় আমাদের দুইজনকে ধরে নিয়ে তমিজের শশুর বাড়ির আঙ্গিনায় গাছের সাথে বেধে আমাদের উপরে নিযর্াতন চালায়৷ হাত-পায়ের আঙ্গুলে তারকাটা ঢুকিয়ে দেয়৷ আমরা তৃঞায় পানির জন্য আকুতি জানালে, তারা প্রশাব করে আমাদেরকে খাওয়ার জন্য দেয়, প্রাণ রক্ষাতে আমিও খেয়েফেলি৷ আমার জিহব্বা বের-করে বারবার লোহা পুতে আটকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে৷ নিজেকে রক্ষার জন্য আমি দাত কপাটি লাগিয়ে থাকি, কেউ কাছে এলে মৃত্যের ভান করে দম বন্ধ করে থাকি৷ আর আবছা অন্ধকারে মামুনকে চুপি-চুপি দেখতে থাকি৷ গভির রাতে আশামিদের মধ্যে একজন বলে” একটা ইট নিয়ে আয় ওর অন্ডকোষ ২টা গলে-দিয়ে প্রেমের শখ মিটে দিই”৷ এরপর মামুন জোরে চিত্‍কার দেওয়ার পর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং আমিও মারাগেছি মনেকরে সবাই ঘটনা স্থল থেকে চলে যায়৷ মারধোর করার সময় পরানপুর ইউ,পি এক প্রাক্তন মেম্বার বারবার মোবাইল ফোনে কোথাও যোগাযোগ করে উপস্থিত ঐ মিশনের সহযোগীদের জানায় রাতে কোন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসবেনা, তোরা চালা৷ এভাবেই বর্ণনা করে লোম-হর্ষক ভয়াবহ সেই হত্যা কান্ডো থেকে প্রানে বেচে যাওয়া মোশারফ৷ প্রত্যক্ষ দর্শিরা জানায় লিঙ্গের অংশ কেটে তার হাতে(মামুনের)ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সেই দিন বিষয়টি মামুনের পরিবার জানতে পেরে, মৃত মামুনের ছোট ভাই এমরান ইউ,পি সদস্য ও এক প্রতিবেশিকে নিয়ে থানায় এসে ভাইকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে৷ থানা পুলিশের দাবি করা ২০ (কুড়ি হাজার)এর মধ্যে ৩ হাজার টাকা নগদ দিয়েও দাবি পুরণে ব্যার্থ হয় ইমরান৷ সেই কারণে মামুনকে তাত্‍ক্ষনিক ভাবে পুলিশ উদ্ধার না করায়, এই হত্যা কান্ডটি ঘটেছে বলে ইমরান প্রতিবেদক কে জানান৷ সরজমিনে এ বিষয়ে মামলার বাদী মৃত মামুুনের বাবা জানায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি আমি পুত্র হাত্যার ন্যায় বিচার দাবী করি৷ এ ব্যাপারে মান্দা থানার ওসি আব্দুল্যাহেল বাঁকীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন আসামিরা জামিনে আছে এবং আইন শৃংখলার অবনতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন৷

শেয়ার করুন