অর্থ বছরের শুরম্নর ৪ মাস হিলি স্থলবন্দরে রফতানিকৃত পণ্য থেকে আয় ৩ কোটি টাকা

0
294
Print Friendly, PDF & Email

শাহিনুর রহমান সোহাগ, হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তর হিলি স্থলবন্দর থেকে ভারতে পন্য রফতানির পরিমাণ দিন দিন পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে শুরম্নর ৪ মাসে রফতানিকৃত পণ্য থেকে সরকার ৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে৷

বাংলাহিলি স্থলবন্দরের কাষ্টমস নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে প্রথম চার মাস (জুলাই-অক্টোবর) ভারতে রফতানিকৃত পণ্যে থেকে সরকারের বৈদ্যেশিক মুদ্রা আহরণের পরিমাণ ছিল ৩ লৰ ৮৫ হাজার ৪৯১ ডলার৷ যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩ কোটি ২ লৰ ২২ হাজার টাকা৷

বাংলাহিলি স্থলবন্দরের কাষ্টমস নথি থেকে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থ বছরে হিলি শুল্ক সার্কেল ৮১ লৰ মার্কিন ডলারের পণ্য বাংলাদেশ হতে ভারতে রফতানি করে৷ বাংলাদেশী টাকা যার পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা৷ উক্ত অর্থ বছরে সবচেয়ে বেশী রফতানি হয়েছে তুষের তেল (ধানের কুড়ার তেল)৷ ৮হাজার ৬শ মেঃ টন তুষের তেল রফতানি বাবদ আয় হয়েছে ৭৯ লৰ মার্কিন ডলার৷ বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৬৪ কোটি টাকা৷

অপরদিকে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ভারতে রফতানিকৃত পণ্যে থেকে সরকারের বৈদ্যেশিক মুদ্রা আহরণের পরিমাণ ছিল ৪৭ লৰ ৩৫ হাজার ডলার৷ যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩৮ কোটি টাকা৷ উক্ত অর্থ বছরে সবচেয়ে বেশী রফতানি হয়েছে তুষের তেল (ধানের কুড়ার তেল) থেকে৷ ৩ হাজার ৩শত ৫০ মেঃ টন তুষের তেল থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকা৷ তার পরে রয়েছে চিড়া গুড়৷ ১৫ হাজার মেঃ টন চিটা গুড় থেকে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লৰ টাকার বৈদ্যেশিক মুদ্রা আয় হয়৷ গত ২০১১-১২ অর্থ বছরের তুলনায় ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে রফতানিকৃতপণ্য থেকে প্রায় ২৭ কোটি টাকা কম আয় হয়৷ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অন্যান্য রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ড্রাইসেল ব্যাটারী, পানির পাম্প, পস্নাষ্টিক ক্যারেট, সিমেন্ট, গার্মেন্টস ঝুট, সিনথেটিক ফিলামেন্ট ইয়ান ইত্যাদি৷

এ বন্দর দিয়ে রফতানির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ এ প্রসঙ্গে রপ্তানীকারক সিএন্ডএফ এজেন্ট শ্যামল কিশোর দাস বলেন, ভারতে বেশ কিছু দেশীয় পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে৷ তাই প্রতিনিয়ত ভারত থেকে পণ্য আমদানি পাশাপাশি রফতানিও উলেস্নখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে৷ এ বিষয়ে বাংলাহিলি কাষ্টমস্ সিএন্ডএফ এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক জামিল হোসেন চলনত্ম বলেন, কিছুদিন আগেও আমরা শুধুমাত্র আমদানির উপর নির্ভরশীল ছিলাম৷ বর্তমানে ভারতের বাজারে দেশী পণ্যের বিশাল বাজার তৈরী হয়েছে৷ তাই পন্য রফতানির পরিমাণও বেড়েছে৷ তাছাড়া আমাদের দেশী পণ্যেগুলোর মান অপেৰাকৃত অনেক ভাল৷ বন্দরের অপারেটর পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও অপারেশন) এস এম হায়দার জানায়, বন্দর কর্তৃপৰ রফতানিকৃত পন্যগুলো অপেৰাকৃত আগে ছাড়করণে চেষ্টা করে৷

এ বিষয়ে কাষ্টমস্ সহকারী কমিশনার মাজেদুল হক জানান, পণ্য রফতানির ৰেত্রে হিলি স্থলবন্দর খুবই উপযোগী৷ তাছাড়া বন্দরে রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা ও হিলি কাষ্টমস কতর্ৃপৰের আনত্মরিক প্রচেষ্টায় বিভিন্ন পণ্য রফতানির মাধ্যমে সরকার চলতি বছরেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশ্যিক মুদ্রা অর্জন করতে সৰম হবে বলে আমি মনে করি৷

শেয়ার করুন