জরুরি ভিত্তিতে পুলিশি গাফিলতির বিচার হোক নাটোরে ইভ টিজিং

0
284
Print Friendly, PDF & Email

গুরুদাসপুরে ইভ টিজিংয়ের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবাকে নির্যাতনকারী দুই বখাটেকে গ্রেপ্তারে গুরুদাসপুরের থানা প্রশাসন এখন গলদঘর্ম। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ সত্য কি না, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের উচিত হবে সেটা খতিয়ে দেখা এবং তদন্তে তা সঠিক প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
অভিযোগটি হলো, গত ২০ মার্চ ওই বখাটেদের একজন সংশ্লিষ্ট স্কুলের কমনরুমে ঢুকে ওই ছাত্রীকে প্রথম উত্ত্যক্ত করে। সামাজিকতার ভয়ে মেয়ের অভিভাবক পদক্ষেপ নেননি। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক একটি সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে থানায় জানিয়ে রাখেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নীরব থেকেছে। সাধারণভাবে অনুমেয় যে এর স্পর্শকাতরতা ও গুরুত্ব হয় তারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে, নতুবা তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু অন্যায্য সুবিধা নিয়ে তাদের পার পাইয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছে।
তাই গুরুদাসপুরের থানাকে যদি দৃষ্টান্তমূলক পাঠ দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে ওই অঞ্চলের বখাটেদের প্রতি একটি কার্যকর বার্তা পৌঁছাবে। প্রতিরোধমূলক সেই বার্তাটা পৌঁছানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ। গত বুধবার দ্বিতীয় দফা উত্ত্যক্ত করার পরও ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে ছোটেনি। তারা গিয়েছিল বখাটের পরিবারের কাছে নালিশ জানাতে। তারা তাদের অবচেতনে সামাজিক প্রতিকার প্রার্থনাকেই হয়তো বাস্তবসম্মত ভেবেছিল। কিন্তু তার প্রতিদান হলো, কথিত বখাটে যুবক অলি ও তার সহযোগী মাহবুব পরদিন হকিস্টিক ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মেয়েটির বাবার শরীর থেঁতলে দিয়েছে।
আমরা আশা করব, মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াবে এবং প্রতিবাদে সরব হবে। গুরুদাসপুর থানার সামনেই থাকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী নিগ্রহের পরিণতিতে এমন সন্ত্রাসী ঘটনায় এলাকার মানুষ শঙ্কিত বোধ করতে পারে। ওই স্কুলটির আশপাশে একাধিক নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই এলাকায় ইভ টিজিংয়ের আরও অনেক নজির আছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেককে শাস্তিও দিয়েছেন।
আলোচ্য ঘটনায় আমরা পুলিশের গাফিলতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।

শেয়ার করুন