হারতাল দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের পথ পরিহার না করলে সরকার হার্ডলাইনেই থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন। তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর দু’দিন আগেই বলেছিলেন, আবারো যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য ক্ষতিকর কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয় তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারপারনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিরোধী দল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সুষ্ঠু থাকুক তা চান না। আর এ কারণেই তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
বিএনপির নেতাদের বক্তব্য দেশকে অশান্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে এডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য সহ্য করবে না সরকার। পাশাপাশি কোনো দল বা গোষ্ঠী যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেই জন্য সরকার যথেষ্ট সর্তক রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত থাকার কারণেই তাদের আটক করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের এ উপদেষ্টা।
আওয়ামী লীগের অপর এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, সরকার চেয়েছিল একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন হোক। কিন্তু বিরোধী দল তা চাচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করার পরও যথাযথ গুরুত্ব দেননি। গণভবনে দাওয়াত গ্রহণ করে তাতে অংশ নিলে রাজনীতির আকাশের কালো মেঘ অনেকটা কমে যেতো। কিন্তু বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহী নয় বলে একের পর এক হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা করছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, সরকার বাধ্য হয়েই বিএনপি নেতাদের আটক করছে। তিনি বলেন, সংবিধান পরিপন্থী একটি অন্যায় দাবি নিয়ে বিএনপি পর পর দুই সপ্তাহ হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। দেশের সাধারণ মানুষের জানমাল ধ্বংস করছে। আবারো হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা করতে চায়। অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে হরতাল দিয়ে এর সমর্থনে বিএনপির নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে আবারো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আর এ প্রেক্ষাপটে সরকার বাধ্য হয়েছে বিএনপির নেতাদের আটক করতে।









