অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ী

0
103
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দেশ আজ চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। আর এই সংঘাত সংঘর্ষময় অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়ী বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করেছিল। এরপর এর অধীনে কয়েকবার সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদল হয়েছে। এ রকম একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাকে সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে বর্তমান সরকারই রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করে পরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। এ জন্য দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীই দায়ী।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার আন্দোলনের কারণে ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর এর অধীনে তিনটি নির্বাচন হয়েছে। এ রকম একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে বাতিল করে সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। সেই সাথে তারা বর্তমান রাজনৈতিক সংকটেরও তৈরি করেছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তারা আদালতের রায়ের দোহাই দেয়। বিচারপতি প্রথম যে রায় দিয়েছিলেন তাতে আরও দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার লোভে এটা করেছেন। অন্যদিকে ক্ষমতা থেকে সুবিধা লাভের জন্য বিচারপতি এ ধরনের রায় দিয়েছেন। তাই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য মূলত প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। এরপর বিচারপতি খায়রুল হককেও এ জন্য দায়ী করা যায়।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য মূলত সরকারই দায়ী। সংবিধান সংশোধন করে তারাই এ সংকটের তৈরি করেছেন। আর এই সংকটের সমাধানের উদ্যোগ রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে থাকার কারণে তাদেরই নিতে হবে। এ ছাড়া দেশের আশি থেকে নব্বই ভাগ লোক চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হোক। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে ক্ষমতাসীনদের অবশ্যই জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। তা না হলে যে কোন পরিস্থিতির সব দায়-ভার সরকার এবং সরকার প্রধানকেই নিতে হবে।
শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষকই নয় রাজনীতিবিদরাও এ সংকটের জন্য মূলত প্রধানমন্ত্রীই দায়ী বলে মনে করেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকেই নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের মানুষকে বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী কে তা বুঝিয়ে বলার জন্য। এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার লোভে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছেন। তাই এর সকল দায়দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করায় দেশের আর এই রাজনৈতিক সংকটের জন্য বর্তমান প্রধান নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের এবং বিরোধী দলের অনড় অবস্থানের ফলে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। সংঘাত আর সংঘর্ষের এ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সারাদেশের মানুষ আজ চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। গত ২৭ অক্টোবরের পর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দুই দফায় বিরোধী দলের ডাকা ১২০ ঘণ্টার হরতালে সহিংসতায় সারাদেশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হরতালের কারণে জেএসসি ও জেএসডি পরীক্ষার তারিখও পরিবর্তন করতে হয়েছে। ১৮ দলীয় জোট আগামীকাল থেকে আবারও টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। এ অবস্থায় পরীক্ষার্থীদের কি হবে? এ হরতালে সংঘাত-সংঘর্ষে কত জনের প্রাণ যাবে? এসব ভেবে দেশের মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত এখন চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কাটছে।

শেয়ার করুন