আগাম কঠোর অবস্থানে সরকার

0
78
Print Friendly, PDF & Email

বিরোধী দলের ব্যাপারে আগাম কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে গত রাতে শুরু হওয়া আটক অভিযান আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করারও চিন্তা রয়েছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। সরকারের একটি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে কর্মসূচি দিলে বিরোধী দলের নেতাদের আটক করার সিদ্ধান্ত হয় কয়েক দিন আগে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিরোধী দল আবার ৭২ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে হঠাৎ ধরপাকড়ের নির্দেশনা আসে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনে করা হচ্ছে, ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিরোধী দল ১০ নভেম্বর থেকে টানা তিন দিনের হরতাল ডেকেছে। এরপর নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠিত হলে বিরোধী দল আবার হরতাল-অবরোধ দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে আগাম গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

গত রাতে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রথম আলোকে বলেছেন, হরতাল করে মানুষকে খুন ও খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বিএনপির এসব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আগেই সংসদে বলেছিলাম, যারা হরতাল ডেকে মানুষ খুন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ধারাবাহিকতায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, বিরোধী দলের আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের পাশাপাশি সরকারি দলের সব মনোযোগ এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক। নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টির লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই আগামীকাল রোববার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করবে দলটি। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে ছোট ছোট অন্য রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। সরকারের কোনো কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও এ কাজে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না এলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা যাবে—এটা মনে করছে না সরকার। বরং বিএনপি-জামায়াত প্রভাবিত আট-দশটি জেলায় ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই বিরোধী দল যাতে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে না পারে, সে জন্য তফসিল ঘোষণার পরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেন, এখন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অগ্রাধিকার হচ্ছে সারা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে যাঁরা দলীয় ও রাষ্ট্রীয় কাজের কারণে এলাকায় কম যেতেন, তাঁরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এই প্রতিবেদককে পাঁচজন মন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, তাঁর দল এখন পুরোপুরি নির্বাচনী কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়া বৈধভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আর কোনো সুযোগ নেই। সময়মতো নির্বাচন হবে এবং আওয়ামী লীগ তার অবস্থানে অটল।

নির্বাচনী প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রগুলো জানায়, চলতি মাসের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তার আগে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারও গঠন হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্তই করে ফেলেছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছেন। ২০ নভেম্বর দেশে ফেরার পর দলের সংসদীয় বোর্ডের সভা ডাকা হবে। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপিসহ ১৮-দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করছে ধরে নিয়েই ভোটের ছক কষছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে মহাজোটের শরিক ১৪-দলীয় জোট একসঙ্গে এবং জাতীয় পার্টিসহ অন্য ছোট দলগুলোকে আলাদা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যাতে তাঁদের নিজ নিজ আসন থেকে পাস করে আসতে পারেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। বাকি আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দল থেকে চাপ দেওয়া হবে না। নির্বাচনমুখী তৎপরতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী ট্রেন চলে আসছে। আগামীকাল থেকে আমাদের টিকিট কাটা শুরু হয়ে যাবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে এই ট্রেন মিস করা যাবে না।’

উৎসঃ   প্রথম আলো

শেয়ার করুন