তৈরি পোশাকের রফতানি আদেশ কমেছে ৩০ ভাগ

0
90
Print Friendly, PDF & Email

পোশাক রফতানিতে আপাতত ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশের বেশি। তবে এ ধারাবাহিকতা আর বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা বাজারে আগামী বসন্তকে ঘিরে রফতানি আদেশের ভরা মৌসুম সত্ত্বেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রফতানি আদেশ ৩০ ভাগ কমে গেছে।
এ অবস্থার জন্য একাধিক কারণকে দায়ী মনে করেন উদ্যোক্তা রফতানিকারকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দরপতন, হরতালসহ চলমান সংঘাতময় রাজনীতি। বিদেশি ক্রেতারা ধরে নিয়েছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এ বছর আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। এ কারণে সময়মতো পণ্য বুঝে না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন বলে মনে করেন তারা।
পোশাকশিল্পের নিট (গেঞ্জি জাতীয় পোশাক) রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে তাদের অধীন এক হাজার কারখানার রফতানি আদেশ কমেছে ৩০ শতাংশের মতো। ওভেন (শার্ট, প্যান্ট) রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, তাদের ধারণামতে রফতানি আদেশ কমেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। কয়েকটি গ্রুপের মতো পলমল গ্রুপের
১৮টি কারখানা থেকেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের সবার দাবি, এসব রফতানি আদেশের বেশির ভাগই গেছে ভারতে।
বিদেশি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পোশাক খাতে মূলধনি যন্ত্রের আমদানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। সম্প্রতি সে দেশের এই খাতের রফতানি আয় বেড়েছে বেশ ভালো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি বাজার ভারতের দখলে চলে যাবে। তার মতে, এ লক্ষ্যেই রুপির দর কমানোসহ বাকি সব আয়োজন পরিকল্পিতভাবেই করছে ভারত।
পরিস্থিতির বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমে যাওয়ার কারণে পোশাকপণ্যের দর প্রতিযোগিতায় ভারতীয় রফতানিকারকরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। সেখানে মার খাচ্ছেন বাংলাদেশি রফতানিকারকরা।
বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি ক্রেতারা ধরে নিয়েছেন, এ বছর আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচল অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। এ কারণে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে তাদের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একটি পণ্য রফতানি করতে অন্তত ৪২টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আমদানি করা কাঁচামাল বন্দর থেকে কারখানায় পেঁৗছানো থেকে শুরু করে আবার তৈরি করা পণ্য বন্দরে পেঁৗছানোর এ প্রক্রিয়ার কোনো একটি চেইন অচল থাকলে যথাসময়ে রফতানি করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবমতে, ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রফতানি আদেশ অন্য দেশে চলে গেছে। তার নিজের কারখানাও একই অবস্থার শিকার। এত কিছুর পরও রফতানি আয় বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চীন গত বছর ১৭০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। পোশাক রফতানি থেকে সরে আসার কারণে এ বছর তাদের রফতানি ১০ শতাংশ কমালেও সেটা বাংলাদেশেই আসার কথা। অথচ দেশের রাজনৈতিক সংকটসহ অবকাঠামো অসুবিধার কারণে সে সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো।

শেয়ার করুন