বিএনপির কর্মসূচিতে সন্তুষ্ট জামায়াত

0
89
Print Friendly, PDF & Email

সংলাপ-সমঝোতা-নির্বাচন নয়, চূড়ান্ত আন্দোলনে দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্ত করে আনাই জামায়াত-শিবিরের এখন একমাত্র লক্ষ্য। এ জন্য তারা একের পর এক টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে মহাজোট সরকারের দ্রুত পতন ঘটাতে চায়। এমন কঠিন কাজ তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে আন্দোলন করে তারা কিছুই করতে পারেনি। প্রয়োজন হয়ে পড়ে বিএনপির মতো বড় দলের সর্বাত্মক সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতা।
জানা যায়, টানা কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মাঠে রেখে ফায়দা লুটতে চায় জামায়াত। অনেকদিন পর বিএনপি তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে বিএনপিকে সঙ্গে পেয়ে তাদের নেতাকর্মীরা এখন মহাখুশি। জোটের দ্বিতীয় দফা টানা হরতাল কর্মসূচিতেও সন্তুষ্ট জামায়াত-শিবির। তাদের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে সামনে রেখে বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, চোরাগোপ্তা হামলার মতো নাশকতা চালিয়ে কর্মসূচি সফল করবে, এমন তথ্যই জানিয়েছেন জামায়াতের মাঠপর্যায়ের নেতারা।
ঢাকা মহানগর জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি বর্তমানকে বলেন, ‘প্রথম রাউন্ডে সরকারের সর্বোচ্চ প্রতিরোধের দেয়াল ভেঙে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিল। এবার আন্দোলনের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে। আন্দোলন কাকে বলে আওয়ামী লীগকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।’ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের লড়াইয়ের মুখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দুর্বার আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নরম-গরম কর্মসূচি ও কূটনীতিক তত্পরতা চালিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সরকার বিএনপির আন্দোলনকে খুব একটা কেয়ার করছে না। একই ইস্যুতে জামায়াত বিএনপি জোটের সঙ্গে আন্দোলন করলেও যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকিয়ে তাদের শীর্ষ নেতাদের মুক্ত করতে মূলত জামায়াত চায় এ সরকারের পতন। এ জন্য তারা চূড়ান্ত আন্দোলন ছাড়া আর কিছুই ভাবছে না এখন। তাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও বিএনপি নেতৃত্বকে বোঝানো হয়েছে, মাঠের চূড়ান্ত আন্দোলন ছাড়া এ সরকারকে কোনো কিছুতে বাধ্য করানো যাবে না। সংলাপ-সমঝোতা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সরকার নামানো যাবে না। আর তা সম্ভব না হলে বিএনপি জোটের আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থাকবে। বাঁচানো যাবে না শীষ নেতাদের, সর্বনাশ ঘটবে জামায়াত-শিবিরের। সংলাপ-সমঝোতার সম্ভাবনা ব্যর্থ করতেই বিএনপি নেতৃত্বকে বুঝিয়ে নানাভাবে ম্যানেজ করে এবার চূড়ান্ত আন্দোলনের পথে নামিয়েছে শরিক দলটি। তাদের পরামর্শেই পনেরো দিনের ব্যবধানে দুদফা টানা ছয় দিনের হরতাল ঘোষণা করা হয়েছে।
এভাবে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি জামায়াতের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনীতিক মহল। তাদের দাবি, আলোচনার টেবিলে বসলে সমাধানের পথ বের হয়ে আসত। কিন্তু সেই পথ পরিহার করে জামায়াতের পরামর্শে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দল। হরতালের মতো টানা কর্মসূচিতে বোমাবাজি, সহিংসতায় জামায়াতের লাভ হলেও পরোক্ষভাবে ক্রমান্বয়ে জনসমর্থন হারাচ্ছে দলটি। তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওই মহলটির।
সূত্র জানায়, জোটের দ্বিতীয় দফা টানা কর্মসূচিতেও মাঠে থাকবে জামায়াত-শিবির। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছেন তাদের নেতাকর্মীরা। পথেঘাটে তাদের হাতে মন্ত্রী-এমপি, আমলা, মহাজোটের নেতাকর্মীসহ যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির টানা তিন দিনের হরতাল কর্মসূচিকে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার লাইসেন্স বলে মন্তব্য করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় জোটের টানা কর্মসূচি প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
কামরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত-শিবিরকে প্রতিরোধ করতে না পারলে আমাদের ’৭১-এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। তাদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান শনিবার বিকালে এক বিবৃতিতে জোটের টানা তিনদিনের হরতাল কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার সারাদেশে গণহত্যা, সন্ত্রাস, গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শুক্রবার পুলিশ আমাদের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর ভাটারা থানার সদস্য আবুল কাসেমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আধিপত্যবাদী শক্তির মদদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অধীনে ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। তবে সরকারের এ আশা কখনও পূরণ হবে না। নীলনকশার নির্বাচন দেশের জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।’ তিনি ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবি জানান

শেয়ার করুন