কাল থেকে ফের টানা ৬০ ঘণ্টা হরতাল

0
81
Print Friendly, PDF & Email

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর সারা দেশে আবারও টানা ৬০ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জোটের মহাসচিবদের বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হরতালে কোনো ধরনের বাধা না দিতে সরকারকে হুশিয়ার করে তিনি বলেন, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু সরকার একতরফাভাবে একদলীয় নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এ জন্য বাধ্য হয়েই আমরা হরতাল আহ্বান করছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সরকারের ওপর বর্তাবে। সংলাপে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, সরকার সংলাপ ও সমঝোতা চায় না। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে টেলিফোনে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে নাটক করেছেন। ২৯ অক্টোবরের পর নতুন তারিখ ঠিক করে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানালেও তা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রক্ষা করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, সরকার সংলাপ চায় না। বিরোধী দলের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত ৬০ ঘণ্টার হরতালে বিরোধী দলের ২০ নেতাকর্মীকে হত্যা, ৬ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরোধী দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সব রকমের যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও হাজিদের যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। আগামী ৪ ও ৬ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা রয়েছে, যাতে অংশ নিচ্ছে ২১ লাখ শিক্ষার্থী। এ পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে কি না- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, কী কী আওতামুক্ত থাকবে, তা তো আগেই জানানো হয়েছে।
অবিলম্বে জমিয়তে উলামা ইসলামের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা সাখাওয়াত হোসেনসহ আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও শামীমুর রহমান শামীম।
জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, এনপিপির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবদুর রশীদ প্রধান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল মালেক চৌধুরী, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের শাহিনুর পাশা চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানীর হাসনাত খান ভাসানী, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন।

শেয়ার করুন