আওয়ামী লীগের তৃণমূলে আতঙ্ক

0
55
Print Friendly, PDF & Email

বিস্ফোরোণমুখ রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে রাজনৈতিক সংঘাত সামাজিক বিরোধে রূপলাভ করেছে। বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় একই পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের, ভাইয়ের সঙ্গে বোনের, বাবার সঙ্গে ছেলের, দুলাভাইয়ের সঙ্গে শ্যালকের, আত্মীয়ের সঙ্গে আত্মীয়ের, প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিবেশীর বিরোধ চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে পারিবারিক বন্ধন, সমাজিক শৃঙ্খলা, আত্মীয়-স্বজনেরর সুসম্পর্ক। এ পরিস্থিতিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী গৃহযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এককভাবে নির্বাচন হলে প্রথমতঃ দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিপক্ষ ভাই-আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আন্দোলনরত দলগুলোর নেতাকর্মীদের পুলিশি জুলুম-নির্যাতন এবং গণগ্রেফতারের দায় তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে প্রতিঘাতের মুখে পড়তে হবে। এ কারণে তারা যেমন আতঙ্কিত তেমনি একক নির্বাচনের সিদ্ধান্তে দলের নীতি-নির্ধারকদের ওপর বিক্ষুব্ধ।
ক্ষমতাসীন দলের এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং বিরোধী দলের ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের’ রূপরেখা মানতে বাধ্য করার আন্দোলন দুই পক্ষের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সর্বত্র একই অবস্থা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন সর্বশক্তি দিয়ে হরতাল প্রতিহত করা হবে। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই লড়াই-সংগ্রাম স্বাধীনতার অস্তিত্বের লড়াই। পরাজয়ের সুযোগ নেই। এতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ী হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ী হওয়ার মরণপণ চেষ্টা চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে মানুষকে। তবে আতঙ্ক বেশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে। তারা মহাজোট সরকারের সময় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, সন্ত্রাস করেছেন এবং মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় এখন প্রতিপক্ষ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। জনরোষে পড়ার ভয়ে তারা উদ্বিগ্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সারাদেশের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে/হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশি জুলুম-নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার বিরোধী দলের নেতারাও হয়ে উঠেছেন মারমুখী। এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরে মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। পুলিশ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং ছেড়ে দেয়া বাণিজ্য করায় সাধারণ মানুষের মধে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। যারা নিজ এলাকায় থাকবেন না তাদের দলীয় পদ থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একদিকে আক্রমণের আশঙ্কা অন্যদিকে পদ হারানোর ভয়। উভয় সংকটে পড়ে দলের নীতি-নির্ধারকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।
সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান পরিষ্কার। সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকার যেনতেন প্রকারে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। প্রভাবশালী দেশ, উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলোকে ম্যানেজ করার মিশন মাঠে নামানো হয়েছে। সমঝোতা না হওয়ার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিয়ে বোঝানো হচ্ছে ‘নির্বাচনের বিকল্প নেই’। মুখে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার কথা বলা হলেও শীর্ষ দুই নেত্রীর ফোনালাপের পর তা ফিকে হয়ে গেছে। এখন ‘নির্বাচন করা’ এবং ‘নির্বাচন প্রতিহত করার’ প্রস্তুতি চলছে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে শুরু করে শেকড় পর্যায়ের নেতারা নিচ্ছেন যুদ্ধংদেহী প্রস্তুতি। ক্ষমতাসীন দল ভিন্ন দলের নেতাদের ভাগিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া দল ভারি করার চেষ্টার পাশাপাশি সারাদেশে ‘নৈরাজ্য প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোট প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার ভোট কেন্দ্রে ‘নির্বাচন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করছে। ৬৪ জেলার সবগুলো উপজেলা ও ইউনিয়নে এসব কমিটি গঠন এখনো সম্পন্ন না হলেও যেসব এলাকায় কমিটি হয়েছে তাতে দেয়া যাচ্ছে ‘চিত্র ভয়াবহ’। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত, কেউবা জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিটিতে দেখা গেছে এক ভাইয়ের নাম আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য প্রতিহত কমিটি’তে অন্যভাইয়ের নাম ১৮ দলীয় জোটের ‘নির্বাচন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি’তে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনার ক্ষমতায় গেলে ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ দেয়ার অঙ্গীকার করলেও চাকরি দিতে পারেননি। ক্ষমতার শেষ সময়ে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রিত্বের চেয়ার ধরে রাখতে ‘ঘরে ঘরে বিরোধ’ বাঁধিয়ে দিচ্ছেন।
৬০ ঘণ্টা হরতালে পুলিশের গুলি, সহিংসতা, ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারমুখী আচরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও-এ ঝড়ে গেছে প্রায় ১৬ থেকে ২০ প্রাণ। আবার ৬০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ হরতালে কতজন মায়ের বুক খালি হয় কে জানে। পিতা হারাম ভাইহারা, স্বামী হারা কতজন হন কে জানে। বিরোধী দলকে দমনে সরকার দেশকে যে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে তা পরিষ্কার। দলীয়করণের কারণে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনেকে বিরোধী দল নিধনে উৎসাহ বেশি। দায়িত্বশীল মন্ত্রী-এমপিরা কাউকে ডেকে আনতে বললে তারা ধরে নিয়ে আসে; আর ধরে আনতে বললে বেঁধে নিয়ে আসে। জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে আলেম-ওলামা দাড়ি টুপি পরিহিতের ওপর জুলুম-নির্যাতন তো চলছেই। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোরভাবে হরতালকারীদের দমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি হরতালকারীদের ‘কুচক্রিমহল’ হিসেবে অবিহিত করে পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এখনকার হরতালকারীরা যদি কুচক্রিমহল হন তাহলে ’৯৬ সালে সরকারি চাকরির রুল ভঙ্গ করে তিনি কোন মহলের সদস্য হিসেবে হানিফের ‘জনতার মঞ্চে’ গিয়েছিলেন সে তথ্য অবশ্য দেশবাসীকে জানাননি। আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা মাঠে থেকে হরতাল প্রতিহতের জন্য যা যা করা প্রয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন। পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অনেক আগেই ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছেন ঘরে ঘরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যার। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজের জয় গতকাল বলেছেন, এবারের হরতালে ৪০ জনের প্রাণ যাবে। হরতাল পালনের দুদিন আগেই এতো প্রাণ যাবে এ তথ্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জয় কোথায় পেলেন তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন ‘হরতাল ছাড়া’ দাবি আদায়ে তাদের কোনো বিকল্প নেই। হরতালের কারণে স্কুলের পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিএনপির এক নেতার মতে শেখ হাসিনা ‘প্রধানমন্ত্রিত্বের চেয়ারের’ লোভ সংবরণ করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। হরতাল হতো না। ওই নেতা বলেন, দেশের অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীরা এখন ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার কথা বলছেন। কিন্তু ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন পরীক্ষার সময় দিনের পর দিন হরতাল করেছে তখন তারা নীরব ছিলেন। শেখ হাসিনা যখন বঙ্গভবন ঘেড়াওয়ের হুংকার দিয়ে বঙ্গভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাসের লাইন এবং পানি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন এই একচোখা বুদ্ধিজীবীরা তাতে সমর্থন দেন। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। শেখ হাসিনা সেটা মেনে নিচ্ছেন না কেন? তারা জনগণের দাবি শেখ হাসিনাকে মেনে নিতে বাধ্য করলেই হরতাল-অবরোধ কিছুই হবে না।
কয়েকজন মন্ত্রীর কথাবার্তায় পরিষ্কার নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি নিয়ে এখন আর মাথা ঘামাচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই তারা এখন ব্যস্ত। বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা হউক বা না হউক তারা সংশোধিত সংবিধানের বেঁধে দেয়া তথা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। কোনো কারণে যদি বিএনপি না আসে তাহলে অন্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সরকারি দল মনে করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ও সংলাপ করার জন্য অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। এখন বিরোধী দল এগিয়ে আসলেই কেবল সমঝোতা হবে। অন্যথায় তাদেরকে ছাড়াই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে আগামী নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি এগিয়ে রেখেছেন। আর চূড়ান্ত বাছাই কাজ শেষ করে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হবে দলীয় মনোনয়নপত্র। এবার মনোনয়ন ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ৭ বিভাগে ৭টি সেল খোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেখানেই বিতরণ করা হবে মনোনয়ন ফরম। সূত্রের দাবি দলীয় ইশতেহার ও নির্বাচনী শ্লোগান তৈরির কাজও শেষ করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শ্লোগান ঠিক করা হয়েছে ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই; পিছিয়ে নয়’ এবং ‘উন্নয়নের অঙ্গীকার ধারাবাহিকতা দরকার’। গত ২৬ অক্টোবর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে ও পরদিন দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংসদীয় বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিএনপি আসুক আর না আসুক, আওয়ামী লীগ চায় যে কোনো মূল্য ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করতে। আর এ লক্ষ্যে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন ৩ নভেম্বর সরকার ফাইনাল খেলবে। সূত্র জানায়, ওই দিনের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাবেন। সজিব ওয়াজেদ জয়কে প্রধান সমন্বয়ক করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এইচটি ইমাম। সূত্র জানায়, নির্বাচনে ‘চমক’ দেখানোও প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ১৯৯৮/৯৯ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপির এমপি রাজশাহীর ডা. আলাউদ্দিন ও সিরাজগঞ্জের হাসিবুর রহমান স্বপনকে ‘ভাগিয়ে নিয়ে’ প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী করে যে চমক দেখিয়েছেন সেই ধরনের চকম দেখানোর পরিকল্পনা চলছে। বামধারা ও ইসলামী ধারার দু’একটি দলের পাশাপাশি ১৮ দলীয় জোটের কয়েকটি দলকে ভাগিয়ে এনে নির্বাচনে শামিল করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আর দলনিরপেক্ষ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিসেবে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত বুদ্ধিজীবী, সুশীলের কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই কিনে ফেলা হয়েছে। তারা ধীরে ধীরে সুর বদল করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচনী গীত গাইতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় একদিকে জীবনবাজী রেখে ১৮ দলীয় জোটের তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকরা মাঠ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; নির্বাচন প্রতিহত করার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের গ্রামগঞ্জের নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। একদিকে দলীয় নির্দেশ মান্য করা অন্যদিকে প্রতিপক্ষের প্রতিশোধপরায়ণ মানসিকতা। দ্বিমুখী চাপে আতঙ্কে সময় পার করছেন ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ রিপোর্ট লেখার সময় ইনকিলাবের এক পাঠক বললেন, প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে বিরোধী দলকে হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। আমরাও তাকে অনুরোধ করছি ১৬ কোটি মানুষের দিকে তাকিয়ে আপনি প্রধানমন্ত্রিত্বের চেয়ার ছাড়ুন। কথায় কথায় আপনি বলে থাকেন ‘আমার ক্ষমতার মোহ নেই’। কিন্তু দেশবাসী দেখছে মাত্র ৩ মাস মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য আপনি কি করছেন।

শেয়ার করুন