বিএনপি নয়, জামায়াতকে নিয়েই টেনশনে পুলিশ

0
99
Print Friendly, PDF & Email

সামপ্রতিক সময়ে বিরোধী দলের নানা কর্মসূচিতে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ১৮ দলের টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালে ফের নাশকতার আশংকা করছে পুলিশ। তবে এক্ষেত্রে বিএনপিকে নিয়ে নয়, পুলিশের বেশি দুশ্চিন্তা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। যেকোন ধরনের সহিংস ঘটনা কঠোর হস্তে মোকাবেলা করা হবে। নাশকতার আশংকায় পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দারা মাঠে কঠোর নজরদারি রাখবে বলে আইজিপি জানান।

এদিকে হরতালকে সামনে রেখে সারাদেশে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতরসূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, হরতাল ডাকে বিএনপি। কিন্তু হরতালের দিন তাদের অধিকাংশ নেতাকর্মীই মাঠে থাকে না।

পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘হরতালে বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কোন টেনশন নেই, যত চিন্তা জামায়াতকে নিয়ে। বিরোধী জোটের গত কয়েকটি কর্মসূচিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কৌশল দেখে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমরাও পাল্টা কৌশল ঠিক করেছি। আগামীকালের হরতালে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী থাকবে হার্ডলাইনে।’

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা চলতি মাসে বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশব্যাপী ব্যাপক নাশকতার আশংকা করছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হত্যার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে খবর পেয়েছে। নভেম্বরকে সহিংস ঘটনার মাস উল্লেখ করে ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাটি একটি প্রতিবেদন শীর্ষ প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে।

আর ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শীর্ষ প্রশাসনের নির্দেশে আইন-শৃংখলা বাহিনী কালকের হরতালে হার্ডলাইনে থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানান।

গত ৫ দিনের হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহিংস ঘটনায় ২২ জন নিহত ও সহস্রাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ সময়ে পুলিশের ১৮৪ জন সদস্য আহত হয়েছে। তবে বিএনপি আহতদের সংখ্যা ২ সহস্রাধিক বলে দাবি করেছে। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ৭ জন, আওয়ামী লীগের ৩ জন ও এক শিশুসহ নিরীহ ৩ জন। এ সকল হতাহতের ঘটনার পর বিএনপি-জামায়াতসহ হরতাল সমর্থনকারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কালকের হরতালে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।

শেয়ার করুন