ভয়াল সেই জেলহত্যা দিবস আজ

0
74
Print Friendly, PDF & Email

ভয়াল ৩ নভেম্বর। গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বেদনাময় কলঙ্কিত দিন। যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার মধ্যে এই দিনটি অন্যতম। বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরীণ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শোকাবহভাবে স্মরণ ও পালন করবে। এ উপলক্ষে শনিবার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি।এ দিনটিকে সামনে রেখে প্রত্যেক বছর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে আওয়ামী লীগ। এবারের জেলহত্যা দিবসে মূল স্লোগানই রাখা হয়েছে “জেলহত্যার পুনর্বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।”

কর্মসূচি মধ্যে রয়েছে সকাল ৬-৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ।

সকাল ৭-০০ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭-৩০ মি. বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত।

রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। বেলা ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে জনসভা। প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাসঘাতক খুনিদের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আজ জাতির সামনে পরিষ্কার। মিথ্যা কুয়াশার ধুম্রজাল ছিন্ন করে আজ নতুন সূর্যের আলোর মতো প্রকাশিত হয়েছে সত্য। হত্যাকারীরা এবং তাদের সহযোগিরা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির আবর্তে নিক্ষেপ করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন সার্বভৌম দেশটিকে বিচ্যুত করা।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এখানেই শেষ হয়নি স্বাধীনতার শত্রুদের ষড়যন্ত্র। ৭৫ এর পর থেকে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশিলব হিসেবে সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ বেরিয়ে আসছে সময়ের ব্যবধানে।

গত ৩৫টি বছর ধরেই এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি চলছে। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে উচ্চ আদালতের রায়ে আত্মস্বীকৃত খুনিদের প্রায় সবাই খালাস পাওয়ার পরও বিচারের দাবি এতটুকু কমেনি। মহাবিজয় নিয়ে এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বঙ্গবন্ধুরই হাতে গড়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এখন দেশবাসী আশায় বুক বেঁধেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মতো জেল হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে। দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আট বছরেরও বেশি সময় ধরে এর বিচার কাজ চলার পর গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনের সাজা হয়। এর মধ্যে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে মামলার তদন্তে পাওয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় যে পাঁচ আসামিকে খালাস দেয়া হয় তারা হচ্ছেন বিএনপি নেতা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মরহুম তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান।

শেয়ার করুন