মজিনা ফিরলেই রাজনীতিতে চমক!

0
42
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে কারো কাছ থেকেই আশানুরূপ সাড়া মিলছে না- এজন্যে নিজ দেশের ‘পলিসি মেকারদের’ সঙ্গে পরামর্শ করতে আমেরিকায় গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সেদেশের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা।

এর আগে তিনি একই বিষয়ে আলোচনার জন্যে নয়া দিল্লী যান বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ড্যান মজিনার এই দৌঁড়-ঝাঁপকে অনেকে ইতিবাচকভাবে নিলেও ভারত সরকার এধরণের কূটনৈতিক তৎপরতাকে ভাল চোখে দেখছে না।

সম্প্রতি মজিনার দিল্লী সফর নিয়ে কলকাতার প্রভাবশালী দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা এধরণের ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছে ভারত অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইনা। এজন্যে ভারত ড্যান মজিনাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা কি হবে সে বিষয়ে তারা কোনো পরামর্শ দেবেন না।

২০১১ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন ড্যান ডব্লিউ মজিনা। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে গত দুই বছর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে নানা মন্তব্যের কারণে আলোচিত-সমালোচিত হন এই রাষ্ট্রদূত। আর এই সুযোগে চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ক্রমে আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংকটে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভিযোগ ও ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিধারা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন এ কূটনীতিকের কাছে। দলগুলোর মুখপাত্রদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলো তার অপেক্ষায় আছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মজিনার ভূমিকা প্রশ্নে সরকারের উচ্চপর্যায় সন্তুষ্ট নয়। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে এ বিষয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীও দীর্ঘদিন তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করেননি। এ অবস্থায় কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবারো ব্যাপক সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

তবে ভারত আমন্ত্রণ না জানালেও গত মাসে বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে দিল্লি সফরে যান তিনি। সফরে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় ড্যান মজিনা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তার দেশের ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বুঝতে চেষ্টা করেন প্রতিবেশী বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের অবস্থান কি?

এ অবস্থায় ড্যান মজিনার ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ, জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণসহ একাধিক কূটনীতিক ও রাজনীতিকের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে মজিনার।

তাছাড়া গত মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান বেঞ্জামিন ব্যারি ওয়াশিংটনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধের অবসানে কাজ করতে সক্রিয় রয়েছেন ড্যান মজিনা।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা উচিত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত কারণে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি।

কিন্তু বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেউ কেউ রেফারির ভূমিকা পালন করলেও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের একটি নির্দিষ্ট গন্ডি রয়েছে। সেই গন্ডি অতিক্রম করলে তা একটি দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এখন অপেক্ষার পালা, মজিনা ফিরে আসার পর বাংলাদেশের রাজনীতি এবং চলমান সংকট নিয়ে এদেশবাসীর সামনে তিনি কি চমক দেন?

শেয়ার করুন