শক্তির মহড়া দেখানোর প্রস্তুতি আওয়ামী লীগে

0
57
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রকাশ ঘটাতে চাইছে আওয়ামী লীগ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের তিন দিনের হরতালের এক দিন আগে রোববার রাজধানীতে সমাবেশ করছে ক্ষমতাসীন দলটি, যাতে জনসমাগম কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন দলীয় নেতারা।

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্যে এই কর্মসূচি দেয়ার পর তা সফলে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা, যা আগে দেখা যায়নি।

জেল হত্যা দিবসের এই সমাবেশে শেখ হাসিনা নিজে থাকবেন, বক্তব্য দেবেন। আগের বছরগুলোতে এই দিবসটির কর্মসূচি আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

সর্বশেষ গত বুধবার গণভবনে শেখ হাসিনা ঢাকা এবং এর আশেপাশের জেলার দলীয় সাংসদ ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “পাঁচ থেকে সাত লাখ লোকের সমাগম নিশ্চিত করতে হবে। কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত লোক থাকতে হবে।”

সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সমাবেশ সফলে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের দলীয় সাংসদ এবং নেতাদের সর্বশক্তি দিয়ে নামার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দুর্বলের সঙ্গে কেউ সন্ধি করে না। শক্তি হলে সবাই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসবে। লাঠি বা বন্দুকের শক্তি না, সমর্থকদের শক্তি। এটাই বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি।”

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারের পূর্ব দিকে সমাবেশের মঞ্চ করা হয়েছে দক্ষিণ দিক মুখ করে। মাইক লাগানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, উদ্যানের মধ্যেই কেবল মাইক লাগানো হয়েছে। তবে কলরেডির মালিক আব্দুর রহিম বলেন, তারা সমাবেশস্থলে আড়াইশ’ মাইক লাগানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সামনে আরো কিছু মাইক লাগানো হবে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন বলে এর নিরাপত্তার দায়িত্বে এসএসএফের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুশ’ কর্মী থাকবেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করেছেন তারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, সমাবেশের প্রবেশপথ বেলা ১২টার সময় খুলে দেয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চারুকলা ইনস্টিটিউট, টিএসসি ও বাংলা একাডেমির উল্টো দিক এবং তিন নেতার মাজারের পাশের গেইট দিয়ে মিছিলগুলো ঢুকবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা (ফাইল ছবি)

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা (ফাইল ছবি)
বৃহত্তর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপির নির্দলীয় সরকারের দাবির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের রূপরেখা দেন। এরপর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন করে সংলাপের প্রস্তাব দিলে হরতালের পর সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে রাজি থাকার কথা জানান তিনি।

সংলাপের আবহ সৃষ্টির পর তা এগিয়ে নেয়া নিয়ে দুই রাজনীতিক দল পরস্পরকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানায়। এর মধ্যে দুই পক্ষ নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা বললে সংলাপ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সরকার সংলাপ চায় না অভিযোগ করে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সোমবার থেকে আবার টানা ৬০ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে ১৮ দল।

ওই হরতাল শুরুর একদিন আগে জেল হত্যা দিবসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ৩ নভেম্বর কারাবন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় তার চার সহচর, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে।

দিবসটি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আগে সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং বনানী কবরস্থানে জাতীয় নেতাদের কবরে ফুল দেবে আওয়ামী লীগ।

এছাড়া ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

শেয়ার করুন