ফরহাদ মজহারকে ফখরুল : কোটি মানুষ আপনার পাশে আছে

0
146
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘ ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে আজ কুৎসা রটনা ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, ফরহাদ মজহার আপনি একা নন। কেবল বিএনপিই নয়, এদেশে কোটি কোটি মানুষ গণতান্ত্রিক মানুষ আপনার পাশে রয়েছে।’’

শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, লেখক ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত কিছু মিডিয়ার কুৎসা রটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমরা মনে করি, মিডিয়া ও গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে জনগণের পক্ষে কথা বলা উচিত। দলীয় চিন্তা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’’

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের উদ্যোগে ‘ আক্রান্ত গণমাধ্যম: সংকটের আবর্তে দেশ’ শীর্ষক এই গোল টেবিল আলোচনা হয়। এতে সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত সচিবসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘‘ যেখানে যখনই গণমাধ্যম কিংবা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আক্রান্ত হয়েছে, সেখানেই আমরা দেখেছি ফরহাদ মজহার এগিয়ে গেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য বিভিন্ন সময়ে তিনি সরকারের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। কেবল তাই নয়, ১/১১ সময়ে যখন দেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো, তখন ফরহাদ মজহারসহ ক‘জন সাহস করে কলম ধরেছিলেন।’’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আজ গণতন্ত্রের মুক্তি ও প্রগতির পক্ষে তিনি কথা বলেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ’’

প্রধানমন্ত্রী- বিরোধী দলীয় নেতা টেলিফোন আলাপ প্রচারের জন্য তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পদত্যাগ দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘‘ আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে যে অভিযোগে সরকার গ্রেপ্তার করেছে, সেই অভিযোগ অভিযুক্ত তথ্যমন্ত্রীও । তার সরকারের আইন তিনি নিজেই ভঙ্গ করেছেন। বিরোধী দলীয় নেতার পরামর্শ ছাড়া টেলিফোন আলাপ প্রচার করা হয়েছে।’’

একই দোষে প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জাতীয় নির্বাচনকে দলীয়করণ করার পায়তারা করছে হবে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘‘ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সরকারের সব কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রবিরোধী। জনগণের মৌলিক অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে। গণবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন তারা একদলীয় নির্বাচনকে দলীয়করণ করছে। উদ্দেশ্য একটাই- একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা (আওয়ামী লীগ) ২০২১ সালে পৌঁছানো।’’

গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান ফখরুল।

কবি ফরহাদ মজহার ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘‘ একটি টেলিভিশন স্টেশন আমার বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচার করে যাচ্ছে। আমার বক্তব্যকে তারা ভুলভাবে প্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষকে এনে কথা বলানো হচ্ছে। ’’

একাত্তর টিভি‘র নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ ‘৭১ টিভি কি প্রকৃত গণমাধ্যম। তারা ক্রমাগত আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে, উস্কানি দিচ্ছে, মিথ্যাচার করছে। একবারও তারা আমাকে ডাকবার প্রয়োজন মনে করিনি। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার তারা সুযোগ দিলো না।’’

‘‘ তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সেই শাহবাগের আন্দোলন থেকে শুরু করে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এটা কি কোনো গণমাধ্যমের কাজ।’’- অভিযোগ তার।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘‘ ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সাহেবদের বলব, দয়া করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করুন। আসুন আমরা সংলাপ করি। আমি আপনাদের প্রত্যেকটি বিষয়ের জবাব দেবো।’’

তিনি বলেন, ‘‘ আপনারা সরকারের পক্ষ হয়ে আমার গ্রেফতারের দাবি করেছেন। আমাকে হত্যা করবেন? টর্চার করবেন? চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আমি প্রস্তুত আছি। আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের বলতে চাই, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা মৃত্যুকে ভয় করে না। আমিও ভয় পাই না। আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করছি।’’

সরকারের পক্ষে থেকে নাগরিকদের নির্যাতনের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান লেখক ফরহাদ মজহার।

১/১১‘র সময়ে দৈনিক প্রথম আলো‘র সম্পাদক মতিউর রহমানের ভুমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ ১/১১ সময়ে মতিউর রহমানের সঙ্গে আমার রীতিমত ঝগড়া হয়েছে। কারণ তারা বিরাজনীতিকরণের পক্ষে ছিল। তৃতীয় শক্তির পক্ষে ছিল। সেখান থেকে আমার সঙ্গে তার (মতিউর রহমান) দূরত্ব সৃষ্টি হয়।’’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাংবাদিক বর্তমান সরকার আমলে দম্পত্তি সাগর-রুনিসহ ৩৩ সাংবাদিক হত্যার বিচার, আহত সাংবাদিকদের ক্ষতিপুরণ, তথ্য ও প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করে টেলিফোন আলাপ প্রচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে বন্ধ হওয়া চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার খুলে দেয়া, আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেখক ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং ৬০ ঘন্টার হরতালের সময়ে একাত্তর টিভি, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কার্যালয়ে বোমা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘‘ বর্তমান সরকার মিডিয়াবিরোধী সরকার। এর বিরুদ্ধে আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’’

আলোচনায় কবি আল মাহমুদ, অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ রউফ, ড. আবুল আসাদ, ড. আকরর আলী খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আইনউদ্দিন আহমেদ, কবি আবু করীম, অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক পিয়াস করীম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ব্যারিস্টার তুহিন মালিক, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাংসদ সৈয়দ আসিফা আশরাফি পাপিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরো ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিচির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহফুজউল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আজহার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রমুখ ।

শেয়ার করুন