১৯৭১ সালে ভারতকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে ইসরাইল: হিন্দুস্তান টাইমস

0
76
Print Friendly, PDF & Email

৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তাকারী দেশ ভারতকে ইসরাইল অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। শুক্রবার হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, গবেষক শ্রীনাথ রাঘবানের লেখা ‘১৯৭১ অ্যা গ্লোবাল হিস্টোরি অব দ্য ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ’ নামক বইটিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতির সময় তেল আবিব থেকে অস্ত্র পেয়েছিল ভারত। গবেষক শ্রীনাথ রাঘবান তার ১৯৭১ নামক বইতে ১৪ দিনব্যাপি যে যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল সেই সম্পর্কে এক নতুন অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছেন।”

পত্রিকাটি আরো বলছে, “রাঘবান নেহেরু স্মৃতি জাদুঘর এবং নয়া দিল্লি লাইব্রেরিতে রক্ষিত পিএন হাকসারের নথিপত্র থেকে এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পেরেছেন। এই নথিপত্রগুলোতে ভারতের সবচেয়ে সুখকর সামরিক মুহূর্তের চমকপ্রদ দিকগুলো বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো পর্যাপ্তভাবে নথিভুক্ত করা হয় নি। হাকসার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপদেষ্টা ছিলেন।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “রাঘবানের গবেষণা উঠে এসেছে যে, ফ্রান্সে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ডিএন চ্যাটার্জি ইসরাইল থেকে অস্ত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৬ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নোটের মাধ্যমে জানানো হয়, ‘ইসরাইল থেকে পাওয়া সহায়তা প্রোপাগান্ডা, অর্থায়ন এবং এমনকি অস্ত্রশস্ত্র ও তেল কেনার জন্য হবে ‘অমূল্য’। ইন্দিরা গান্ধী দ্রুত এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর মাধ্যমে লিচেস্টাইনের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।”

ভারতের সঙ্গে ওই সময়ে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের জন্মের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ভারত এবং ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতে আরবদের সমর্থন দিয়েছিল দেশটি।

হিন্দুস্তান টাইমস রাঘবনের গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, “তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার একজন দূতের মাধ্যমে গান্ধীর উদ্দেশ্যে হিব্রু ভাষায় একটি নোট পাঠান। সেখানে অস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার কথা বলা হয়। তবে দীর্ঘদিন পর ১৯৯২ সালে যখন নরসিমা রাও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

রাঘবানের বইতে তৎকালীন ‘র’ প্রধান আরএন কাও এর ১৯৭১ সালের ৪ আগস্ট লেখা একটি নোটের কথা উল্লেখ করা হয়। কিভাবে ইসরাইলি প্রশিক্ষকদের দ্বারা সেই অস্ত্র আকাশপথে পরিবহন করা হবে – নোটে সেটির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। নোটে আরো ছিল, সেই অস্ত্র ওই ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর মধ্যে বিতরণ করা হবে যারা গেরিলা যোদ্ধা ও পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করবে।

প্রতিবেদনে, “বইটিতে অপর একটি গোপন চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয় যেটা পাকিস্তান এবং ইরানের মধ্যে হয়েছিল। যদি ভারত আক্রমণ চালায় তবে করাচি পর্যন্ত ‘এয়ার কভার’ দেয়ার জন্য ওই চুক্তি করা হয়। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিশোধ নিতে পারে এমন ভয়ে ইরানের তৎকালীন শাহ ওই চুক্তি বাতিল করে দেন। ”

গ্রন্থটিতে বলা হয়েছে, “গান্ধী যখন চীনের হস্তক্ষেপের বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন, তখন তৎকালীন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ব্রজেশ মিশ্র এক প্রমাণিক মূল্যায়নে বলেছিলেন চীন এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকবে। ”

অবশেষে, আমেরিকা সপ্তম নৌ-বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আমেরিকান জাহাজ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারত প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেয় এবং টাঙ্গাইলে ছত্রিসেনা অবতরণ করায়। রাজধানী ঢাকার পতনের পর কোনো আন্তর্জাতিক শক্তি হস্তক্ষেপের আগেই ভারত পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে।

শেয়ার করুন