রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ৫০ লাখ শিক্ষার্থী-অভিভাবক

0
114
Print Friendly, PDF & Email

সোমবার শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। আর ২০ তারিখে শুরু হবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নভেম্বরের শুরু থেকেই কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধী দল। সোমবার থেকে টানা হরতালে ঘোষণা আসাটা প্রায় নিশ্চিত। যদি পরীক্ষা এসব হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তবুও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষা চলাকালে বিরোধী দলকে হরতাল না দিতে অনুরোধ করেছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই টার্নিং পয়েন্টে আলোচনায় যখন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তখন কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতারা। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে হরতাল-অবরোধ না দিলে তাদের দাবি আদায় করা যাবে না।

অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার ঝুমুর। কয়েকদিন পরই জেএসসি পরীক্ষা। তাই দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটছে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে। ঝুমুরের স্বপ্ন বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু আসন্ন জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে স্বস্তিতে নেই সে। পরীক্ষা চলাকালে হরতালের ঘোষণা আসছে জেনে সে আতঙ্কে আছে। ঝুমুর মতো আতঙ্কে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী।

এদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা এবং জানুয়ারিতে নতুন বছরের ক্লাশ শুরুর সময়সীমা নিয়ে চিন্তিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে গত এপ্রিল ও মে মাসে চরম সমস্যায় পড়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী। হরতালের কারণে আট দিনের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হরতালের কারণে ছয় দিনের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা পেছানো হয়। যাতে পিছিয়ে যায় ফল প্রকাশের দিনক্ষণ।

শেয়ার করুন