যে কারণে হানিফকে সরিয়ে দেওয়া হলো

0
188
Print Friendly, PDF & Email

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন দিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

এই ঘটনায় খোদ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন হানিফকে কেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ থেকে অপসারণ করা হলো এই নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা কানাঘুষা। দলের ভেতরে হানিফ অনুসারিরা এই ঘটনার পর থেকে নিশ্চুপ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দল জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে মনোনয়ন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে সরকারি এই পদ ছাড়তে হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলি থেকে জানা গেছে , গত ৯ অক্টোবর গণভবনে কুষ্টিয়া জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গ উঠলে স্থানীয় নেতারা হানিফকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সরাসরি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে অবস্থান নেন। গত নির্বাচনে ওই আসনে নির্বাচিত হন হাসানুল হক ইনু। কিন্তু আগামী নির্বাচনে ইনুকে যাতে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া না হয় হানিফ সেই চেষ্টা করে আসছেন। এমনকি তিনি নিজেই সেই আসনটিতে দলীয় প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই নিয়ে দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়।

সূত্রগুলি আরও জানায়, ওই দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হানিফ এই প্রসঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে হানিফ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর আসনে নির্বাচন করার ব্যাপারে তার অনড় অবস্থানের কথাও জানান।

শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়ে হানিফকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে আগে এলাকায় গিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করার কথা বলেন। এরপর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, যে কোনো সময় তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহবুব উল আলম হানিফকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ থেকে অব্যাহতি দিল। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির পদটি একজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন।

দলীয় সূত্রগুলি থেকে আরও জানা যায়, হানিফ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাজোটের শরীক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্যই শেখ হাসিনা তাকে পদোন্নতি দিয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি হিসেবে নিয়োগ দেন। গত পাঁচ বছরে দলের ভেতরে ও বাইরে হানিফ ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে অবস্থান করেছেন।

শেয়ার করুন