সিইসির অসহায় আত্মসমর্পণ

0
113
Print Friendly, PDF & Email

পুরনো জুতাতেই পা ঢুকালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। নির্বাচনী ৯০ দিন শুরু হয়ে যাওয়ার পরও তিনি নির্ভর করছেন দুই নেত্রীর সংলাপের উপর। যেন তার কোন দায়িত্বই নেই। সর্বশেষ রোববার তার কথায় ফুটে উঠেছে অসহায় আত্মসমর্পনের চিত্র। তিনি বলেন, ‘আগেও তো দুই দলের যে বিভেদ ছিল বেশি, একেবারে আশার আলো ছিল না। এখন প্রধান দুই দলের ওয়াইড ডিফারেন্স কিছুটা হলেও কমেছে, এগিয়েছে। এটা ইতিবচাক। এই এগোনোতে আমরা আশার আলো দেখছি। এ পর্যায়টাকে উত্তীর্ণ হয়ে যেতে পারব।’
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রাজা। নির্বাচনের রয়েছে ৯০ দিনেরও কম সময়। অথচ অনেক বিষয়ই এখন পর্যন্ত পরিস্কার নয়। প্রধানমন্ত্রী কিভাবে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিবেন? অন্য মন্ত্রীদের বেলায়ও কি নীতি অনুসরণ করা হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখেই সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তফসিল পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলতে পারবে না সংবিধানে একথা বলা নেই। পঞ্চদশ সংশোধনীতে সৃষ্ট সংবিধানে নির্বাচনের দিন সংসদ অধিবেশন চালানোর ক্ষেত্রেও কোন বাধা নেই। নির্বাচনের সময় গননা শুরু হলেও নির্বাচনের প্রস্তুতির কোন চিত্রও এখনও দেখা মিলছে না। নির্বাচন কবে হবে তা নিশ্চিতভাবেই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয় নয়। রেফারির সঙ্গে অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান লিখেছেন, রেফারিকেও তেমন রেফারি হতে হবে। গ্যালারি ভর্তি মানুষ রেফারির ব্যাঘ্রোচিত স্বভাবের পরিবর্তে মেষের স্বভাব দেখলে তার প্রতি পচা ডিম ছুড়তেই পারে। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সম্পর্কে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কতৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ ২৭শে অক্টোবর থেকে ২৪শে জানুয়ারির মধ্যে যেকোন দিন দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এ সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না।
সংবিধানের বাইরেও সার্বজনীন সত্য রয়েছে। সারা দুনিয়া বলছে, সকল দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। এমন হলে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নাও পাঠাতে পারে। অথচ হঠাৎ হঠাৎ আমাদের কোন কোন নির্বাচন কমিশনার বলে বসেন, নির্বাচন করা আমাদের দায়িত্ব। কে আসুক না আসুক তা দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়। কোন কোন কমিশনার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের মেরুদন্ড সোজা থাকারও প্রমাণ দেখান।
সৎ এবং সাহসী বিচারক হিসেবে আদালত পাড়ায় পরিচিতি ছিল বিচারপতি এম এ আজিজের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর সরকারি দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরিণতি তিনি ভোগ করেছেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ যেন একই পরিণতি ভোগ না করেন তাই আমাদের প্রার্থনা।

শেয়ার করুন