বিএনপিতে সরকারের এজেন্ট!

0
58
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্য নেতাদের মতো নন। তিনি কথা বলেন বেশ যুক্তি দিয়ে, তাঁর ভাষাও মার্জিত। বিএনপিবিরোধী অনেক মানুষও তাঁর তারিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যকার টেলিফোন সংলাপ নিয়ে সরকারি মহলে যখন বিরূপ আলোচনা চলছে, তখন তিনি টেলিফোন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এটি তাঁর শিষ্টাচারই বলতে হবে।
কিন্তু এই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন হরতালের সময়ে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য সরকারের এজেন্টদের দায়ী করেন, তখন অবাক না হয়ে পারি না। তিনি কি সত্যি বলছেন? হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল, আর গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে সরকারের এজেন্টরা! তাহলে কি সরকারের এজেন্টরা বিএনপি-জামায়াতে ঢুকেই হরতাল সফল করছে?
রোববার সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল হরতালের সময়ে পুলিশ-র্যাব-বিজিবি এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডারদের হাতে বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী নিগৃহীত হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর এই অভিযোগ পুরোপুরি অসত্যও নয়। হরতালের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময়ই বাড়াবাড়ি করে। প্রকৃত অপরাধীকে না পেয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করে। তাই বলে কি হরতালের প্রথম দিন যশোরের অভয়নগরে ও পিরোজপুরের জিয়ানগরে যুবলীগের দুই নেতাও সরকারের এজেন্টদের হাতে খুন হয়েছেন? বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন দেওয়া ও বোমা-ককটেল ছুড়ে মারার কাজটিও করেছে তারা? পত্রিকায় প্রকাশিত খবর ও ছবি, টেলিভিশনের সচিত্র ভাষ্য কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। অভয়নগর ও জিয়ানগরে যুবলীগের দুই নেতাই খুন হন হরতালকারীদের হাতেই। বিভিন্ন স্থানে তারা বাস-গাড়ি পুড়িয়েছে, বোমা-ককটেল মেরেছে। এখন এই হরতালকারীরা যদি সরকারের এজেন্ট হয়ে থাকে, তাহলে তো বিএনপির নেতাদের দুশ্চিন্তার কারণ আছে।
২.
আজ সোমবার ‘প্রথম আলো’র প্রথম পাতার ছবিতে দেখা যায় হরতাল শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা আগেই শনিবার রাতে গাবতলীতে বিআরটিসির ডিপোর ভেতরে ছয়টি বাসে আগুন দেয় হরতালকারীরা। এতে দুটি দোতলা বাস সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, আর চারটি আংশিক। বাস রাস্তায় নামলে না হয় হরতাল ভাঙা হয়, ডিপোতে থাকা বাস কীভাবে ভাঙল? এক সময়ে বিআরটিসির বাসের গায়ে দাম লিখে বলা হতো, ‘এই বাস জাতীয় সম্পদ, একে রক্ষার দায়িত্ব আমার আপনার সবার।’ হরতালকারীরা সেই দায়িত্বই পালন করেছেন ডিপোতে থাকা বাস জ্বালিয়ে দিয়ে।

একই দিন ‘প্রথম আলো’র শেষ পাতায় প্রকাশিত চট্টগ্রামের ছবিটি আরও মর্মস্পর্শী। একটি অটোরিকশা জ্বলছে। আর সেই অগ্নিদগ্ধ অটোর দিকে ঝুঁকে উদ্বিগ্ন চেহারায় দাঁড়িয়ে আছেন অটোচালক। অটোতে ছিলেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর দুই আত্মীয়। চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থেকে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মূল ফটকের সামনে পৌঁছালে হরতালকারীরা তাঁদের অটোরিকশা থেকে নামিয়ে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন এই অটোচালককে ঘরে ফিরে যেতে হবে শূন্য হাতে, যেখানে তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা তাঁর অপেক্ষায় আছেন। তিনি ফিরলে রান্না ও খাওয়া হবে।

যারা হরতালের নামে ডিপোতে থাকা জাতীয় সম্পদ পুড়িয়ে দেয়, যারা হাসপাতালগামী অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশা জ্বালিয়ে দেয়, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের উদ্দেশে মধ্যযুগের বাঙালি কবি আবদুল হাকিমের কবিতার পঙক্তি ধার করে বলতে ইচ্ছে হয়, ‘সেজন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

শেয়ার করুন