হার্ডটক: মানুষের জীবনের দাম কত

0
187
Print Friendly, PDF & Email

নাটক এগিয়ে চলে আপন গতিতে। হ্যামলেটের হাতে খুন হন মন্ত্রী। মৃত্যু হয় প্রেমিকা ওফেলিয়ারের। এবং সব শেষে আবার মৃত্যু। এনকাউন্টারের শব্দ। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। হ্যামলেট নাটকে মৃত্যুর মিছিল দেখতে দেখতে উপস্থাপক বলেন, ‘মৃত্যুর মিছিল চলছে, মারা যাচ্ছে মানুষ, আর তোমরা শুধুই নীরব।
আরেকটি লেখায় আমরা হ্যামলেটকে এভাবে স্মরণ করেছিলাম। মৃত্যুর মিছিল থামেনি। নতুন করে আবার শুরু হয়েছে এ মিছিল। তিন দিনে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৫ জন মানুষ। কেউ পুলিশের গুলিতে, কেউ প্রতিপক্ষের হামলায়। এ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক। নির্বিচার গুলি চালাচ্ছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। এযেন ভিনদেশি নাগরিকদের ওপর খড়গহস্ত শৃঙ্খলা বাহিনী। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় কেনা অস্ত্র নির্বিচারে ব্যবহার করা হচ্ছে জনগনের উপর। হরতাল আহবানকারীরাও সহিংস। নির্বিচারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে ককটেল। সারাদেশে যেন ককটেল বিস্ফোরণের উৎসব চলছে। ভাঙচুর করা হচ্ছে গাড়ি। হামলা চালানো হচ্ছে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সবমিলিয়ে এক ভীতিকর বাংলাদেশের চিত্রই প্রতিনয়ত দেখতে পাচ্ছি আমরা।
মনীষী লেখক আহমদ ছফা একবার বলেছিলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সব জিনিসেরই দাম বেড়েছে, শুধু মানুষের দাম কমেছে। তিন দিনে টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে প্রতিনিয়ত যখন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে তখন প্রশ্নটি আরও জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবনের দাম কত? অধিকার আদায়ের সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের। বৃটিশ আমলেও এ অঞ্চলের মানুষ লড়াই, সংগ্রামে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলের প্রায় পুরোটা সময়ই সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাদের। ৫২ এবং ৬৯ এর গৌরবজ্জল ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষই রচনা করেছেন। এইসব আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষ ত্যাগ স্বীকারের অনন্য নজির স্থাপন করেন। কিন্তু সংগ্রাম মুখর সেইসব আন্দোলনে মৃত্যুর ডিজিট কিন্তু এতটা বাড়েনি। সেইসময় গুলি চালানোর ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতা রক্ষা করেছিল। যদিও ২৫শে মার্চের পর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর। নয় মাসে যে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন ৩০ লাখ মানুষ। স্বাধীন বাংলাদেশে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার অভিযোগ আছে, বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী গুমের অভিযোগও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতীতে যেভাবে নির্বিচার মিছিলে গুলি চালানো হচ্ছে এমন নজির কি আছে?
অবশ্য মানুষও বদলে গেছে। ডেডলাইন ২৫শে অক্টোবর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই এ নিয়ে ছিল আতঙ্ক। পরদিন দেখা গেলে প্রায় সকলেই স্বস্তি প্রকাশ করছেন। সাতটি লাশ যেন তাদের কাছে কিছুই নয়। সত্যি, মানুষের দাম অনেক কমে গেছে।

শেয়ার করুন