সংকট নিরসনে এগিয়ে আসতে পারে জাতিসংঘ

0
62
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান দুই দলের আলোচনা অনেকটাই অনিশ্চিত পথে হাঁটছে। কিন্তু সংলাপ নিয়ে দুই দলের প্রস্তাবে আশার আলো খুঁজছেন বিদেশি কূটনীতিকেরা। তবে সংকট নিরসনে কোনো ভূমিকা নিতে হলে এবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরকে এগিয়ে আসতে দেখা যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও পাশ্চাত্যের একাধিক কূটনীতিক গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব দলের অংশগ্রহণ জরুরি। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাটা অপরিহার্য। জাতিসংঘের পাশাপাশি উন্নয়ন-সহযোগী দেশগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বার্তা দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সব দলের জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর, বিশেষ করে এর রাজনৈতিক শাখা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। প্রায় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ফোন করেছেন। তাঁর ওই উদ্যোগই এবারকার রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ভূমিকা নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বান কি মুন এক বছরে দুই দফায় তাঁর সহকর্মী ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। তবে এসব আলোচনায় এখনো কোনো ফল আসেনি। আগামী মাসে তারানকোর আবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন গতকাল সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারানকো বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন কি না, তা আমার জানা নেই। এর আগে দুবার বাংলাদেশ সফরের সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। দুবারই আমরা তাঁকে বাংলাদেশ সফরে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাইয়েদা ওয়ার্সি আগামী ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন। দুই দিনের সফরের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়।

দুই দলের প্রস্তাব ইতিবাচক: নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই নেত্রীর প্রস্তাবকেই ইতিবাচকভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নয়ন-সহযোগী দেশগুলো।

ইউরোপের একটি প্রভাবশালী দেশের একটি কূটনীতিক সূত্র গত বুধবার প্রথম আলোকে জানায়, দুই দলের প্রস্তাবেই ইতিবাচক উপাদান আছে। সংলাপের মাধ্যমে দুই দলই সংকট নিরসনের মনোভাব দেখাচ্ছে। তাদের মধ্যে চিঠি বিনিময় হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ফোন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। দৃশ্যমান এসব পদক্ষেপে তাঁরা আশার আলো দেখছেন।

গত কয়েক দিনে ফের তৎপর: গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবের পর আবার তৎপর হয়েছেন বিদেশি কূটনীতিকেরা। আর সোমবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা বাড়িয়েছেন কূটনীতিকেরা। প্রায় প্রতিদিনই তাঁরা গণমাধ্যমে চলমান রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার সকালে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরনের বাসায় আলোচনা করতে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। ওই দিন দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ড্যান মজীনা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন মধ্যাহ্নভোজ করেন। দুই বৈঠকেই আলোচনায় এসেছে চলমান রাজনীতি।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের একে অন্যকে জানার চেষ্টা: যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই দেশ চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চাইলেও তাদের মাঝে কিছু মতপার্থক্য আছে বলে জানা গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একে অন্যকে বুঝতে ও বোঝাতে চাইছে। এ অবস্থায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত গতকাল দুপুরে দিল্লি গেছেন। তাঁর দুই দিনের এ সফর নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন