প্রস্তুত জামায়াত-হেফাজত

0
63
Print Friendly, PDF & Email

২৫ অক্টোবরকে ঘিরে রাজপথসহ সারাদেশে হেফাজত ও আলেমদের সাথে নিয়ে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াত-শিবিরের। ২৫ অক্টোবর দিনটিতে সারাদেশের মতো রাজধানীতেও শক্তির মহড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দলটির। রাজধানীতেও যে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও সামর্থ রয়েছে তা চূড়ান্তভাবে এবার প্রমান করতে চায় জামায়াত। ।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজপথে নেমে পড়ার পর পুলিশ ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বাধা দিলে কীভাবে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে সে ব্যাপারেও ছক তৈরী করেছে জামায়াত-শিবির নেতারা। তাছাড়া দলটির নানা কৌশলে ২৫ অক্টোবরের পরও রাজধানীতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সূত্রমতে, তারা যে কোন উপায়ে রাজধানীতে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। কারণ দলটির নেতারা মনে করেন, ঢাকায় মাঠ উত্তপ্ত করতে না পারলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে ঘায়েল করা যাবে না। বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে সরাসরি মিছিল-মিটিং করতে পারেনি জামায়াত। যার ফলে দলটি রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও প্রতিটি গ্রামের নেতা-কর্মীকে রাজধানীতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে সক্রিয় প্রস্তুতি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগেও আঠার দলীয় জোটের প্রত্যেকটি সমাবেশে জামায়াতের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।

এদিকে, আলিয়া মাদ্রাসার জন্য সরকার ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করলেও কওমি মাদ্রাসা জন্য তেমন কিছু না করায় ২৫ অক্টোবর ৪০ হাজার কওমি মাদ্রাসার আলেমদের রাজপথে আন্দোলনে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এছাড়াও রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে কেরানীগঞ্জ, কামরাঙির চর, ডেমরা, কাঁচপুর, সাভার, আশুরিয়া ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থানের কওমি, আলীয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরাও ২৫ অক্টেবর সমাবেশ ও রাজপথের আন্দোলন সফল করতে নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে সারাদেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বিরোধীদলের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে একই স্থানে পাল্টা সভা-সমাবেশের আহবান করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিরোধীদলের পূর্ব ঘোষিত জনসভা বানচাল করতে আওয়ামী লীগ ২৪ ও ২৫ অক্টোবর জনসভার ঘোষণা দিয়েছে। একইভাবে সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষতা বজায় না রাখে তাহলে তা হবে দেশের জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের বিশ্বাস ঘাতকতা করা। দেশের জনগণ রাজপথেই স্বৈরাচারি সরকারকে উপযুক্ত জবাব দিতে বাধ্য হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন