সংসদ থেকে বিএনপির গণ পদত্যাগের গুঞ্জন

0
31
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হলে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির সংসদ সদস্যরা সবাই একে একে পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৪ অক্টোবর সংসদ শেষ না হলে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে।

গুঞ্জনটি আরও বেড়েছে বিএনপির সংসদ সদস্যদের মঙ্গলবারের বৈঠকের ঘোষণাটি আসার পর। কানাঘুষা চলছে, পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বৈঠক ডেকেছেন।

সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তই সঠিক হবে বলেও মনে করছেন। এমনই একজন বাংলানিউজকে বলেন, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সরকার বাড়াবাড়ি করলে আমরা এমন সিদ্ধান্তে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে নেতারা প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের সিনিয়র এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ২৪ অক্টোবর সংসদ শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য শুনে আমরা সন্দিহান। তারা সংসদ চালিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এটা নিয়মতান্ত্রিক নয়। তাই প্রয়োজনে সবার পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত এলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, এখন আন্দোলনের চূড়ান্ত সময় এসে গেছে। ভেবে-চিন্তে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে চলছি আমরা।

সোমবার মধ্যরাতে বিরোধীদলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের নিয়ে বসবেন মর্মে সভা আহ্বান করতে বলেছেন আমাকে। আমি সভা ডেকেছি। কিন্তু সংসদ থেকে গণহারে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু খালেদা জিয়ার রয়েছে। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত আমরা এখনো পাইনি। এমন কিছু এলে মঙ্গলবারই হয়তো জানবো।

ফারুক বলেন, পরিস্থিতি যেমন বাধ্য করবে জনগণ ও দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়া সেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই নেবেন।

উল্লেখ্য, চলতি অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিবেশন শুরুর আগের মধ্যরাতে বিপরীত সিদ্ধান্তটিই নেয় দলটি। এর মধ্যে খালেদা জিয়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি জানান। কিন্তু সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আর আসে নি।

২৪ অক্টোবর সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই। কিন্তু বিএনপির নেতারা বলছেন, এই তারিখের পরেও সংসদ চালিয়ে নিলে তা হবে সংবিধান পরিপন্থী।

শেয়ার করুন