মির্জা ফখরুলের চিঠি, সৈয়দ আশরাফের ফোন

0
70
Print Friendly, PDF & Email

খালেদা জিয়ার দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল মির্জা ফখরুলের লেখা চিঠিটি সৈয়দ আশরাফের মিন্টো রোডের বাসায় গিয়ে তাঁর কাছে পৌঁছে দেন।
চিঠি পেয়েই মির্জা ফখরুলকে ফোন করেন সৈয়দ আশরাফ। এ সময় মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। ওই অবস্থায় তিনি সৈয়দ আশরাফের ফোন ধরেন। তিনি সালাম দিয়ে ‘আশরাফ ভাই’ সম্বোধন করে বলেন, ‘আশা করছি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আলোচনা শুরু করবেন। আমরা এগিয়ে এসেছি, এখন আপনারাও এগিয়ে আসবেন।’
এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, সৈয়দ আশরাফ ফোনে কী বলেছেন? মির্জা ফখরুল বলেন, চিঠির জন্য তাঁকে সৈয়দ আশরাফ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দিনাজপুরে যাচ্ছেন। চিঠিটি তিনি সঙ্গে নিয়েই যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চিঠির বিষয়টি নিয়ে আলাপ করবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ২১ অক্টোবর সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের একটি প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বিবেচনার জন্য সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন। প্রস্তাবের অংশটুকু আপনার নিকট পাঠালাম। এ বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে আপনাকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সৈয়দ আশরাফের কাছে চিঠি পৌঁছে দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।
গত সোমবার খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেন। তাতে বলা হয়, ‘১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ জন উপদেষ্টার মধ্য থেকে বর্তমান সরকারি দল পাঁচজন এবং বিরোধী দল পাঁচজন সদস্যের নাম প্রস্তাব করবে। তাঁরা আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা হবেন। সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সম্মানিত নাগরিককে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান সংসদ ভেঙে যাওয়ার আগে প্রয়োজনবোধে ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচিত করে দিতে পারে। সংসদ যেভাবে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের নির্বাচিত করে থাকে।’
এর আগে ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ওই সরকারে প্রতিনিধি দিতে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে নাম প্রস্তাব করেন।

শেয়ার করুন