বি ত র্ক উ ৎ স ব বিতর্কে বিকশিত হয় সুন্দর

0
58
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার আছে। যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। বিতর্কের দ্বন্দ্বে বিকশিত হয় সুন্দর। গতকাল মঙ্গলবার রংপুর অঞ্চলে পেপসোডেন্ট-প্রথম আলো বিতর্ক উৎসবে অতিথিরা এসব কথা বলেন।
যুক্তিতে মুক্তি—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী শুরু হয়েছে পেপসোডেন্ট-প্রথম আলো জাতীয় স্কুল বিতর্ক উৎসব ২০১৩। অঞ্চল পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় উৎসব।
গতকাল সকাল ১০টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে প্রবীণ শিক্ষক মলয় কিশোর ভট্টাচার্য উৎসবের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ঝগড়া নয়, পরস্পর যুক্তিকে খণ্ডন করার মাধ্যমে আরও কিছু শেখা যায়। প্রথম আলো এ বছর থেকে বিতর্ক উৎসব শুরু করেছে। এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিষিণ পরিমল বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন সূর্য ওঠে। এই সূর্যের আলোয় একদিন বিকশিত হবে আমাদের দেশ।’ মাহিগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহরাব দুলাল বলেন, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এই বিতর্ক উৎসব নতুন প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলবে। রংপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক এ আই এম মুসা বলেন, বিতর্ক শব্দটি হলো সবচেয়ে শক্তিধর শব্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাহিত্যিক আনওয়ারুল ইসলাম, সরকারি বেগম রোকেয়া মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. শাহ আলম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ, শিশু নিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হামিম, সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, কবি জি এম নজু, রংপুর শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আরিফউজ্জামান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রংপুর বন্ধুসভার নাজমুল আলম। সহযোগিতা করেছেন বন্ধুসভার সদস্যরা। বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ কেইউপি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। বিজয়ী হয় কালীগঞ্জ কেইউপি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হয় বিজয়ী দলের দলনেতা জান্নাতুল নাঈমা।
বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধা আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। এই বিতার্কিকেরাই একদিন সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।’
উৎসবে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এগুলো হলো: রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, শিশু নিকেতন উচ্চবিদ্যালয়, রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়; লালমনিরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, কালীগঞ্জ কেইউপি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, পাটগ্রাম ইসলামী আদর্শ বিদ্যানিকেতন উচ্চবিদ্যালয়; নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নীলফামারী সরকারি উচ্চ-বিদ্যালয়, নীলফামারী কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এবং কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজ।

শেয়ার করুন