বললেন ইইউ রাষ্ট্রদূত সংলাপে বসার এখনই সময়

0
56
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গঠনমূলক আলোচনার এখনই উপযুক্ত সময়।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আনা এ মন্তব্য করেন। সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রথম আলোসহ তিনটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা ও ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরনও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে গুলশানে পঙ্কজ সরনের বাসায় এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, ওটি ছিল নিয়মিত বৈঠকের অংশ। আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে কথা হয়। দুই প্রতিবেশীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ইইউ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রডেনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেইগ উইলকক এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উইলিয়াম আনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই দলের প্রস্তাব আমাদের উৎসাহিত করেছে। সংঘাতের পথ পরিহার করার যে প্রত্যয় তারা ব্যক্ত করেছে, তা ইতিবাচক।’ নিজেদের মতপার্থক্য দূর করে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি উপায় খুঁজে বের করতে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
আনা বলেন, ‘দুই পক্ষই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, সেটি বলে দেওয়া আমাদের কাজ নয়। এ ক্ষেত্রে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। তবে সমস্যার সুরাহা হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।’
ইইউ রাষ্ট্রদূত জানান, সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইইউ সদস্যদেশগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানেও বলা হয়, সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ সংলাপ।
২৫ অক্টোবরের মধ্যে দুই দলের মতপার্থক্য দূর না হলে কী ঘটতে পারে, জানতে চাইলে এর কোনো সরাসরি উত্তর দেননি উইলিয়াম আনা। তবে বলেন, ‘আগামী দিনে কী ঘটতে যাচ্ছে, এ নিয়ে আমি অনুমাননির্ভর মন্তব্য করতে চাই না। সম্প্রতি যা ঘটছে, তা উৎসাহব্যঞ্জক। তাই ইতিবাচক বিষয়গুলোকেই আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।’
ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংলাপ আয়োজনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে কি না, জানতে চাইলে তা এড়িয়ে যান ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

 

শেয়ার করুন