চামড়া শিল্পের ঘটছে প্রসার

0
59
Print Friendly, PDF & Email

চামড়া শিল্প থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব, যা বর্তমান রপ্তানী আয়ের দ্বিগুনেরও বেশি। এর জন্যে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার আশা করছেন চামড়া শিল্পের সংগঠনগুলো।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রক্রিয়াজাত চামড়ার চেয়ে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানী আয় বেশি হওয়ায়, রপ্তানীমুখি চামড়াজাত পণ্য তৈরির দিকেই ঝুঁকছে ব্যবসায়ীরা।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর কোরবানির ঈদে ১০ থেকে ১৫ ল পশু বেশি কোরবানী হয়েছে। তাই এবছর চামড়ার পরিমাণও বাড়বে ১০ থেকে ১৫ ভাগ জানালেন বাংলাদেশ হাইড এ্যান্ড স্কিন মারচ্যান্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. টিপু সুলতান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় বিশটি দেশে রপ্তানী হচ্ছে বাংলাদেশের গবাদি পশুর চামড়া। এসব চামড়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায় দিন দিন বাংলাদেশী চামড়ার বাজারও বাড়ছে। এছাড়া দেশেও তৈরি হয়েছে চামড়া শিল্পের আলাদা বাজার।

জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ চামড়া পাওয়া যায় তার সবটাই প্রক্রিয়াজাত হয় রাজধানীর ট্যানারিগুলোতে। পরে এর বেশিরভাগই চলে যায় ইটালি, চীন, কোরিয়াসহ নানা দেশের চামড়াজাত পণের কারখানায়। এবং সেখানে তৈরি হয়, জুতা, ওয়ালেট, হাতব্যাগসহ নানা ধরণের পণ্য। এসব পণ্য আবার ফিরে আসে বাংলাদেশের বাজারেই।

আরো জানা গেছে, গত বছর দেশে মোট সংগ্রহ করা চামড়ার ৮০ ভাগ রপ্তানী করে যে আয় হয়েছে, দেশের কারখানায় বাকি ২০ ভাগ দিয়ে উৎপাদিত চামড়াজাত পণ্য রপ্তানী করে আয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি। এ কারণে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ঝুঁকছে পণ্য তৈরির দিকে।

এদিকে রপ্তানীকারকরা বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ জুতায় শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। এছাড়া পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং রাশিয়ায় নতুন বাজার তৈরি হওয়ায়, উৎপাদন বাড়াতে পারলে রপ্তানী আয় আরো ৫০ ভাগ বাড়ানো সম্ভব।

দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চামড়া শিল্প থেকে অর্জিত মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এবার দশ পনেরো লাখ পশু বেশি কোরবানি হওয়ায় কাচাঁমালও পাওয়া যাবে বেশি। সরকারি সহায়তা এবং সাভারের ট্যানারি শিল্প বাজার হয়ে গেলে, সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জনও।

আর আর্থিক সহযোগীতা পেলে, বর্জ্য ব্যবস্থান উন্নয়ন ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থাসহ সরকারের পরিকল্পনা মাফিক সাভারে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন আরো সহজ হবে। যা এই  শিল্পের উত্তরোত্তর উন্নতি লাভে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন