জামায়াত প্রশ্নে ছাড় দেবে না আ.লীগ

0
57
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান এবং ওই সরকারে জামায়াতের অংশীদারত্ব না দেওয়ার বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সবকটি উপনির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তা ছাড়া যুদ্ধাপরাধের দায়ে উচ্চ আদালত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। সুতরাং এ দুটি বিষয়ে কোনো ছাড়া না দেওয়ার বিষয়ে অনড় থাকবেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান কে হবেন, এটা জাতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সুতরাং তাঁর অধীনে নির্বাচন করতে কারও কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অন্য আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। আর আদালত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করায় তাদের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

দলটির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে দা-কুড়াল ও বল্লম নিয়ে সমাবেশে আসার ঘোষণায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সভা-সমাবেশের এ সিদ্ধান্ত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

দলটির একজন সভাপতিমণ্ডলীর  সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুনেছি আগামীকাল বিরোধীদলীয় নেত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন। তিনি কী বলেন, সেটা শোনার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। কারণ আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না।’ তবে জামায়াত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

দলটির নেতাদের মতে, কত সদস্যবিশিষ্ট, কী ধরনের নির্বাচনকালীন সরকার হবে, সেটা যদি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলতেন তাহলে আলোচনার সুযোগ থাকত না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সব দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন দলটি বিএনপির ইতিবাচক সাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

শেয়ার করুন