সাঘাটায় মঙ্গাতাড়ানোরের বাম্পার ফলন: কৃষকদের মুখে হাসি

0
82
Print Friendly, PDF & Email

মঙ্গা কবলিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে চলতি আমন মৌসুমে মঙ্গাতাড়ানোর ধান হিসেবে পরিচিত আগাম জাতের বিশেষ উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ করা হয়েছিল বেশিমাত্রায়। যে ধান আশ্বিন মাসের শেষভাগেও পাকতে শুরু করেছে। আর সেই ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। উলেখ্য, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে কোন ফসল না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা মঙ্গা কবলে পড়ে চরম বিপাকে পড়তো। কিন্তু জেলার চরাঞ্চলগুলোসহ বিস্তৃণ এলাকায় এখন এ দু’মাসেই আগাম জাতের ধান উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে চিরায়ত মঙ্গা এখন এ এলাকা থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের ল্যমাত্রা নিধারণ করা হয়। তার মধ্যে উচ্চফলশীল বিভিন্ন  জাতের আগাম ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে ৫শত হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বল্পব্যয়ে এবং অল্প সময়ে কৃষকেরা এ ধানের চাষাবাদ করে মঙ্গার সময়টিতে ধান ঘরে তুলে একই জমিতে রবি ফসলেরও চাষ করতে পারবে। এতে কৃষকেরা ভালই লাভবান হবে এবং কার্তিকের মঙ্গা দুর হবে। উপজেলার সর্বত্রই এ ধান পাকতে শুরু করেছে। বিশেষ এ ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে, উচ্চ ফলনশীল ময়না, তেজ এবং হিরা-২।  ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে সোনালী রঙের পাকা ধানের সমারোহ। আগে মরা কার্তিক হিসেবে খ্যাত কার্তিকের প্রথম সপ্তাহেই শুরু ধান কাটা মাড়াইয়ের উৎসব।সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের আর্দশ কৃষক জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুস ছামাদ, মোফাজ্জল হোসেন, আছান আলীসহ পাশ্ববর্তী গ্রামের কৃষকেরা জানায়, তারা গত জুলাই মাসের শেষের দিকে আগাম জাতের উচ্চ ফলনশীল ময়না, তেজ ও হিরা-২ জাতের রোপা আমনের চারা জমিতে রোপন করেন। বৃষ্টিপাত নাহলেও জমিতে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে এবারে তাদের এ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।  মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই তারা ধান ঘরে তুলতে পারছে। বোনারপাড়া বাজারের বিসিআইসি’র সার  ও বীজ ডিলার সাকোয়াত হোসেন জানায়,  এ সময়ে আগাম জাতের ময়না, তেজ, ও হিরা-২ জাতের আমন ধান চাষ করলে অধিক ফলন হয়।  এতে একদিকে যেমন মঙ্গাকালে ধান ঘরে আসে। অন্যদিকে তেমনি একই জমিতে রবি ফসল চাষ করে কৃষকরা দু’তরফা লাভবান হতে পারে।সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার সোহেল মোহাম্মদ সামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, আগাম জাতের এ ধান চাষে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার বলতে যা বুঝায় সেটাই হবে। বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার বিঘা প্রতি ২০-২৫ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, একই জমিতে কৃষকেরা আমন, রবি ফসল ও বোরো ধানেরও চাষ করতে পারবে।

শেয়ার করুন