আবারও বড় দরপতন, মূলধন কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকা

0
57
Print Friendly, PDF & Email

বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হতে হাতেগোনা কয়েকদিন বাকি থাকলেও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর এ অনিশ্চয়তার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। ব্যক্তিবিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বিক্রির চাপে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়ছে দেশের শেয়ারবাজার।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও দেশের শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে। বরং আগের চেয়ে পতনের মাত্রা আরও বেড়েছে। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে গতকাল চলতি সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক (ডিএসইএক্স) আগের দিনের তুলনায় ৬৫ পয়েন্ট কমেছে। দিন শেষে সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯২ পয়েন্টে। গত প্রায় সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সর্বনিম্ন সূচক ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ পয়েন্টে। এদিকে কোম্পানিগুলোর অব্যাহত দরপতনে বাজার মূলধনেও বড় ধরনের পতন ঘটছে। আগের দিনের তুলনায় গতকাল বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। দিনশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায়।
বাজারের দরপতনের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইছে না। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অপরদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। সামনে আরও বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কায় লোকসান কমানোর জন্য তারা শেয়ার ধরে রাখতে আগ্রহী হচ্ছেন না। আলমগীর হোসেন নামে একজন বিনিয়োগকারী জানান, আগামী ২৪ অক্টোবরের পর কী হবে—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এজন্য বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও আবেদন এবং ঈদ ও পূজার বাড়তি খরচ মেটানোর জন্যও অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।
অবশ্য দরপতনের দিনেও ডিএসইতে ২৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৪৫টির, কমেছে মাত্র ২২১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দর।

শেয়ার করুন