ট্রাইব্যুনালের রায় ফাঁস নিয়ে ‘আষাঢ়ে গল্প’

0
47
Print Friendly, PDF & Email

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ফাঁস হওয়া নিয়ে ‘আষাঢ়ে গল্প’ সাজাচ্ছে পুুলিশ। এ অভিমত আইন বিশেষজ্ঞদের। তারা বলেছেন, দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক একজন পরিচ্ছন্ন কর্মীর ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে প্রবেশের অবাধ সুযোগ ছিল—পুলিশের এ ধরনের দাবি হাস্যকর। রায় তৈরির মতো গোপনীয় ও স্পর্শকাতর কম্পিউটার এতো অরক্ষিত ছিল তা ভাবা যায় না।

গত ১ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার আগের রাতেই বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে ১৬৪ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ হয়। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো দাবি করেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ৬ষ্ঠ তলায় একটি কম্পিউটারের ‘ডি-ড্রাইভে’ এই রায়ের কপি পাওয়া যায়। কম্পিউটারে প্রতিটি ফাইল বা ডকুমেন্টের উত্স নির্ণায়ক তথ্য ওই ফাইল বা ডকুমেন্টে সংরক্ষিত থাকে। ওই ফাইল বা ডকুমেন্টের প্রপার্টিজ অপশনে গেলে এ তথ্য পাওয়া যায়। এ রায়ের কপিটি যে ফাইলে পাওয়া গেছে তার প্রপার্টিজ পরীক্ষা করে দেখা যায় ‘ডি-ড্রাইভ’ এর আলম নামক ফোল্ডারের সাব ফোল্ডার ‘ডিফারেন্ট কোর্টস এন কোর্টস ক্রিয়েশনের’ মধ্যে আরেকটি সাব ফোল্ডার ‘চিফ প্রসিকিউটর-ওয়ার ট্রাইব্যুনাল’ এর মধ্যে রাখা রায়ের খসড়া কপিটির নাম ছিলো ‘সাকা ফাইনাল-১’। ফাইলটির প্রপার্টিজ অপশনে দেখা যায় ফাইলটি তৈরি করা হয়েছে ২০১৩ সালের ২৩ মে ১২ টা ১ মিনিটের সময়। ফাইলের সাইজ ১৬৭ কিলোবাইট। মোট পৃষ্ঠা ১৬৪। ট্রাইব্যুনালের রায়টি ছিলো ১৭২ পৃষ্ঠার। ১৬৪ পৃষ্ঠার পর বাকি অংশগুলো ছিলো আদেশের অংশ।

অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোর এ দাবি সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের সেই কম্পিউটার জব্দ করেনি পুলিশ। এমনকি তদন্তের স্বার্থে আইন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেনি পুলিশ। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইন সচিব তাকে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে ট্রাইব্যুনালের রায় সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। অনলাইনে খসড়া রায় প্রকাশের দু’দিন পর ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়। জিডিতে কাউকে সরাসরি দায়ী করা না হলেও প্রেস ব্রিফিং-এ রেজিস্ট্রার আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে এটা অনুমান করা হচ্ছে যে, কথিত খসড়া রায় ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে কম্পোজ করার পর কোন না কোনভাবে তা লিকড হয়েছে।’ এরপর তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির পক্ষ থেকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নয়ন আলী ও ফারুক নামে ট্রাইব্যুনালের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়।

শেয়ার করুন