ভোট নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করবে আ.লীগ

0
84
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচন প্রতিরোধে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের ঘোষণার পাল্টা হিসেবে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করবে আওয়ামী লীগ। ২৫ অক্টোবর-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলটি রাজপথে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান নেবে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, ভোটকেন্দ্র নির্বিঘ্ন রাখতে সারা দেশে দলীয়ভাবে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগরের ১৬টি নির্বাচনী এলাকায় এক হাজার ৫৮৯টি ভোটকেন্দ্রের জন্য কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কথা প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন।
আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, ঈদের পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে নানা কর্মসূচি নিয়ে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখা হবে। সাবেক মেয়রদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ ও তার পরবর্তী সময়ে সব সাংসদকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকার জন্যও বলা হয়েছে।
বিরোধী দলের ‘নির্বাচন বানচালের কর্মসূচি’ মোকাবিলার উপায় নিয়ে গত সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার সব সাংসদকে নিয়ে বৈঠক করবেন। ১৩ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অসাংবিধানিক দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ আপস করবে না।
সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের বৈঠকে ঈদের পর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কার্যালয়সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতা-কর্মীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির সিদ্ধান্ত হয়। কাল বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এরপর ঢাকার সব সাংসদকে নিয়ে মহানগর নেতারা বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে মূলত বিরোধী দল যাতে কোনো নাশকতা করতে না পারে, তার জন্য প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এখন অনেক শক্তিশালী। নির্বাচন বানচালের যেকোনো তৎপরতা রুখে দিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এলে অন্তর্বর্তী সরকারে তাদের প্রতিনিধি নেওয়াসহ নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের বাইরে রাখার কোনো প্রস্তাব নিয়ে দলটি আলোচনায় যাবে না।
এই নেতারা বলেন, সংবিধানের আওতায় থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সরকারের এই অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনও আছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

শেয়ার করুন