ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করুন, সামনে সুদিন

0
31
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া একতরফা নির্বাচন রুখতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েক দিন। একদলীয় শাসনের অবসান হবে। সামনে সুদিন আসছে।
বিএনপি-সমর্থিত ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদ আয়োজিত ‘দেশের বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা ২৫ অক্টোবরের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। সংকট সমাধানে তাঁরা সরকারি ও বিরোধী দলকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় বিএনপি-সমর্থিত ব্যবসায়ী নেতারা খালেদা জিয়াকে ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা খালেদা জিয়া-ঘোষিত আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। খালেদা জিয়া একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করতে কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের জন্য আবারও আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে শাসনতন্ত্র কেটেছিঁড়ে কলঙ্কের নতুন অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। এই কলঙ্ক মুছতে হবে। এর জন্য সবাইকে এক হতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। তিনি সরকারকে দায়িত্বশীল হতে ও মানুষের হূদয়ের স্পন্দন অনুভব করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি, তাঁরা সমঝোতার পথে আসবেন, দেশকে হানাহানি ও অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেবেন না।’
খালেদা জিয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও যুগের চাহিদার আলোকে নতুন ধারার সরকার গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ জন্য মেধা ও যোগ্যতা হবে সর্বোচ্চ মাপকাঠি। যত দূর সম্ভব সবার মতামত ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সংকীর্ণ দলীয়করণকে প্রশ্রয় না দেওয়া, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে ব্যবসা করবে না; বরং পথের বাধাগুলো দূর করে শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। নষ্ট রাজনীতিকে অনুসরণ না করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, উচ্চকণ্ঠে যত কথাই প্রচার করা হোক না কেন, অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা ভালো নয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে দিশেহারা মানুষের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বুলি এখন পরিহাস। কারণ, তাঁরা বিদ্যুৎ চান, মেগাওয়াট-কিলোওয়াটের প্রতারণাপূর্ণ হিসাব শুনতে চান না।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের খারাপ অবস্থার জন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী নন। দায়ী হিংসাশ্রয়ী, সংকীর্ণ, ভুল রাজনীতি। যে অপরাজনীতির শিকার হতে হচ্ছে সারা জাতিকে। এতে বর্তমান হচ্ছে সংঘাতময় ও অস্থির। ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ছে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। তিনি বলেন, রাজনীতি সুন্দর না হলে আর কোনো কিছুর পথই মসৃণ থাকবে না। তাই রাজনীতি হতে হবে সমঝোতার ও ঐক্যের, ঘৃণা-বিদ্বেষ-বিভাজনের নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, সময় এসেছে অতীতমুখী, আবেগাশ্রয়ী, স্লোগানসর্বস্ব ভুল রাজনীতিকে বর্জন, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ঘৃণা-বিদ্বেষের রাজনীতি পরিহার, রাজনীতির নামে কুৎসা, শঠতা, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, অসত্য প্রচারণা ও হিংসা-বিদ্বেষকে ‘না’ বলার। তিনি গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রোখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষকে যারা সম্মান করতে জানে না, তাদের মর্যাদার আসন থেকে নামিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।
মতবিনিময় সভার সভাপতি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আওয়ামী লীগ এখন খাদ্যলীগে পরিণত হয়েছে। এরা যা পায় তাই খায়। তিনি একতরফা নির্বাচন করার সরকারি ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতি হবে না, তা রাজনীতিবিদদের নিশ্চিত করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প যেন রাজনীতির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াহেদ, আবু মোতালেব, আফজাল হোসেন, মো. জালাল উদ্দীন, জাকির হোসেন, সাইফুল ইসলাম, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. হাতেম, সালাম মুর্শেদি এবং বিএনপির নেতাদের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরকতউল্লা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন