রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণ ও ঐক্যের, ঘৃণার নয় : খালেদা জিয়া

0
64
Print Friendly, PDF & Email

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, মানুষকে যারা সম্মান করতে জানে না তাদেরকে মর্যাদার আসন থেকে নামানো সময় এসেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদ আয়োজিত বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, অতীতমুখী ও স্লোগানের রাজনীতি বর্জনের সময় এসেছে। রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণ ও ঐক্যের, ঘৃণার নয়।

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। এই ব্যাংক যদি ধ্বংস হয় তবে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হবে।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকেরা ঋণের নামে ব্যাংক লুটপাট করেছে। গত পাঁচ বছরে কাল্পনিক উন্নয়নের কথা শুনে জনগণের কান ঝালাপাল হয়ে গেছে। গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংসের চক্রান্ত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদেরকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ব্যবসা করবো না। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবো। জাতীয় সরকার গঠন করবো।
 
খালেদা জিয়া বলেন, আমি এখন মনে করি দেশে সরকার আছে। তাই তাদেরকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাবো। আমি আশা করি তারা বর্তমান সংকট সমাধানে আলোচনায় বসবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। মানুষ আজ উদ্বিগ্ন। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হয়েছে, দেশ চাঁদাবাজির কারখানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নেতৃত্বদানের দায়িত্ব নিতে হবে বিএনপিকে।

তিনি বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই, তরুণরা মুক্তি চায়, তরুণ উদ্যোক্তারা মুক্তি চায়।

এফবিসিসিআই এর সাবেক সহসভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে না। শিল্প কারখানা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। শেয়ার বাজার লুটপাট করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোকে লুটপাটের আখড়া বানানো হয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

খালেদা জিয়া দারিদ্য হ্রাসের হার ধীর হয়ে গেছে উল্লেখ করে ২০০১-২০০৫ সাল এবং ২০০৯-২০১৩ এই সময়ের মধ্যে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। দারিদ্র সীমার হার, অতিদারিদ্রের হার কমানের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময় অর্জন চারদলীয় জোট আমলের অর্জনের চেয়ে কম বলে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।

শেয়ার করুন