চামড়া কিনতে ৪৯২ কোটি টাকা ঋণ

0
80
Print Friendly, PDF & Email

এবারের ঈদ-উল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক ট্যানারি মালিকদের চারশ ৯২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। গত বছর তারা এ খাতে ঋণ দিয়েছিল তিনশ ৭০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দুশ কোটি টাকা বেশি ঋণ দেওয়া হবে এ খাতে। যদিও এর বাইরে সরকারি মালিকানাধীন কয়েকটি বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংক আরো কিছু ঋণ দেবে।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী প্রদীপ কুমার দত্ত টেলিফোনে বাংলানিউজকে বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক এবার প্রায় ৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে চামড়া কিনতে। তিনটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণ দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। তবে ২৮টি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে ঋণ চাইলেও এর মধ্যে ২৫টি খেলাপি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের আমরা কোনো ঋণ এবার দেবো না। সোনালী ব্যাংক গত বছর ৬৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল।’

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘চারটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা ৮১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখনও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। মঙ্গলবারের বোর্ড মিটিংয়ে প্রস্তাব যাবে। আর গত বছর ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ কোটি টাকা।’

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সব চূড়ান্ত হয়নি। তবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেবো না, যারা ঋণ ফেরত দেন না।’

গত বছর ব্যাংকটি ঋণ দিয়েছিল ৮০ কোটি টাকা।

এদিকে, জনতা ব্যাংকও এবার দুইশ কোটি টাকা ঋণ দেবে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবারের বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। গত বছর ব্যাংকটি এ খাতে ১৩৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। এ টাকা ২২টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল।

ব্যাংকাররা জানান, চামড়া কিনতে এক বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়া হয়। এ ব্যবসায় জড়িত নিয়মিত গ্রাহকরা ঋণ পেয়ে থাকেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ঋণের টাকা দেওয়া হচ্ছে, বড় চামড়া প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিকে। তবে চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের একটি বড় অংশই বছরের পর বছর খেলাপি হয়ে রয়েছে।

জানা যায়, প্রতিবছর চামড়ার বার্ষিক চাহিদার সিংহভাগের জোগান আসে কোরবানির পশু থেকে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ট্যানারি-শিল্পে বার্ষিক চামড়ার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশই সংগ্রহ করা হয়, কোরবানি দেওয়া পশু থেকে। এ চামড়া অন্যান্য সময় সংগৃহীত পশুর চামড়া থেকে উন্নতমানের।

বিপুল পরিমাণ চামড়ার সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ সময় সব চামড়া নিজেদের নগদ অর্থে কিনতে পারেন না। এ কারণে তারা ব্যাংকগুলোতে এসে ধর্ণা দেন; বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে।

তবে সূত্র বলছে, এবার ব্যাংকগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অলস টাকা পড়ে আছে। ধার নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা।

ধারণা করা হচ্ছে, সামনে নির্বাচন থাকায় এবারের ঈদে পশু জবাই বেশি হবে। ফলে, চামড়ার পরিমাণও বাড়বে। তবে চামড়ার দাম সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজার ঠিক রাখতে নিজেরাই দর বেঁধে নেবেন।
উৎসঃ   বাংলা নিউজ

শেয়ার করুন