শেষ সময়ে সরকারি কেনাকাটার ধুম

0
33
Print Friendly, PDF & Email

মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকারি কেনাকাটার ধুম পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসামগ্রী, ড্রেজার, গম, সার ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার প্রস্তাব তড়িঘড়ি অনুমোদন পাচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ভেরিয়েশন ব্যয়, অতিরিক্ত ব্যয়, ঠিকাদার ও পরামর্শক নিয়োগসহ নানা খাতে অর্থ খরচ করা হচ্ছে দেদার। সূত্রমতে, সংবিধান অনুযায়ী ২৪ অক্টোবরের পর কোনো কিছু কেনাকাটায় অনুমোদন দিতে পারবে না সরকার। যদিও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই শেষ সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার-পরামর্শক নিয়োগ ও জিনিসপত্র কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু হতে এখনো ছয় মাস বাকি, সেগুলোরও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নয়টি প্রস্তাব এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে বিবিধের মধ্যেও আরও প্রায় অর্ধডজন ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে। কমিটি এর আগে গত ২৮ আগস্ট ২৪৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন একসঙ্গে দিয়েছে। যাকে নজিরবিহীন বলছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিমান বাহিনীর জন্য ২৪টি হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র জানায়, ক্রয় কমিটির বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্যাপিটাল ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প শীর্ষক ক্রয় প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রায় ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে সৌদি আরব থেকে। সে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সৌদি আরব থেকে এ ছাড়া চার লাখ টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যা চায়না এঙ্মি ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হবে। এর মেয়াদকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদী খননের জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে গত সপ্তাহে একাধিক অনভিজ্ঞ কোম্পানিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এমনকি ভোজ্যতেলের ব্যবসা করে এমন প্রতিষ্ঠানকে ১১০০ মেগাওয়াটের দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আলোচনা হয় জোরেশোরে। বিভিন্ন পক্ষের বাধা ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

শেয়ার করুন