পুলিশ মানে কি?

0
73
Print Friendly, PDF & Email

উম্মুল ওয়ারা সুইটি : ত্বকীর ঘটনা ভুলতে পারিনা। নিজের সন্তানসহ আশপাশের সব শিশুদের মুখে ত্বকীকে দেখতে পাই। ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে তারা কি , মানুষ না অন্য কিছু? এ বিষয়টি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। একটি শিশু কিভাবে নোংরা আর হায়েনারূপী রাজনীতির শিকার হলো সেটি ভাবছি। অনেকের সাথে এ নিয়ে কথাও হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির আরেক আবিষ্কার ফেইসবুক ,যাকে আমি খুব গালমন্দ করি আবার অল্প সময়ে জন্য হলেও এরমধ্যে কিছু একটা খুঁজে বেড়াই। সেটি এখনো খোলা আছে। লেখার মাঝে কি মনে হলো ফেইসবুক বাটনে চাপ দিলাম। প্রিয় সহকর্মীর আহ্বান আর পোষ্ট চোখে পড়ল। আরিফুজ্জামান তুহিনের আত্মদগ্ধ হওয়া এক আহ্বান। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় পুলিশ সদস্যরা কিভাবে একটি ১৭ বছরের মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। সেই যন্ত্রনা থেকে লিখেছেন তিনি। আর সঙ্গে বিকেলে শাহবাগে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ঘটনাটি গত দুদিন ধরে মানসিক পীড়া দিচ্ছে। কিন্তু তুহিনের লেখাটি পড়ে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। ত্বকী ইয়াসমিন আজকের এই কিশোরী আদতে যারা এখনো শিশু – এদের কাউকেই তো নিরাপত্তা দিতে পারছি না আমরা। আমরা যে পরবর্তী প্রজন্মের কথা বলছি যারা এদেশের আর্থ সামাজিক-রাজনীতির হাল ধরবে ? ওরা কারা ? ত্বকী আর ইয়াসমিনদের মতো কেউ নয় ! বাংলাদেশের পুলিশের ভ’মিকা কি হবে দীর্ঘ এতো বছরেও খুব স্পষ্ট হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে নারী কন্যা শিশু আর কিশোরীদের সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ দেখিয়েছে, তাতে মনে হয় আমাদের দেশের পুলিশ মানে ধর্ষক । কখনো এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি , পুলিশ স্ব-ইচ্ছায় একজন নারী, কন্যা শিশু বা কিশোরীকে উদ্ধার করে ধর্ষককের ধরতে সক্ষম হয়েছে। গোবিন্দ গঞ্জের ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে এবং একেবারে থানাহাজতে করেছে। তাই জানতে পারলাম। তাহলে আমরা কি ধরে নিতে পারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সব ধর্ষনের ঘটনা ঘটে তার সঙ্গে পুলিশদের একটা অদৃশ্যমান সমর্থন আছে ? সরকারি কোষাগারের টাকায় লাইসেন্স করা সব অস্ত্র নিয়ে এরা অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে। যদিও কয়েকদিনের মধ্যে একটা কিছু শাস্তি প্রদান করা হবে অভিযুক্ত অজ্ঞাতনামা কতিপয় কনস্টেবলদের। বলা হবে এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এটি আসলে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ঘটনা কতটা ঘৃণিত তাও আমার প্রকাশের সাধ্য নেই। দিল্লীকে ধর্ষনের শহর বলে আমরা অনেকেই রসিকতা করি। আর আমাদের কি বলবে পৃথিবী ! যাক এটি কতটা নিষ্ঠুর কতটা বর্বর এটা প্রত্যেকেই আমরা জানি। আমি আসছি এদের শাস্তি নিয়ে এবং এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা কি হবে সেই প্রসঙ্গে। মানববন্ধন, নারী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদী সমাবেশ, মানিনা মানবোনা কিংবা অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এই ধরনের কর্মসূচি দিয়ে সাধারন দুর্বৃত্ত আর বখাটেদের দমন করা যায়। কিন্তু দেশ রক্ষাকারী একটি সংস্থা যাদের কাছে আমাদের নিরাপত্তা নিহিত তাদের দেখলেই আতংক বাড়ছে এর করণীয় কি হতে পারে এটি এখন ভাবার সময় হয়েছে। ঘটনাবহুল দেশ বলে প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে আগামী কাল আবার নতুন কোন বর্বতার প্রতিবাদে মিছিল মিটিং বা মানববন্ধন করবো- আমি অন্তত এই টুকুতে আর আশাবাদী নই। প্রজাতন্ত্রের মানুষের সঙ্গে পুলিশের কি আচরণ হবে সেটি অবশ্যই সুচিন্তিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। নিরাপত্তা হেফাজতে হয় টাকা দিয়ে মার ঠেকানো আর নারী কিশোরী হলে ধর্ষনের শিকার এর বিহিত চাই। আপাতত অন্য কিছুই এর থেকে বড় ইস্যু হতে পারে না।

উম্মুল ওয়ারা সুইটি : সাংবাদিক

শেয়ার করুন