সরকারি সম্পত্তিতে হল-মার্কের ১০ স্থাপনার আংশিক উচ্ছেদ

0
55
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকার সাভারে হল-মার্ক গ্রুপের দখলে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ একর সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। দিনভর অভিযানে ওই সম্পত্তির ওপর নির্মিত ১০টি স্থাপনার আংশিক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নন্দখালী ও কান্দিবৈলারপুর মৌজায় হল-মার্ক গ্রুপের প্রধান শিল্পপার্ক এলাকায় ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অভিযান চালানোর সময় উপস্থিত ছিলেন সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. লিয়াকত আলী।
সাভার উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, হল-মার্ক কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে চার বছরে কান্দিবৈলারপুর মৌজার ৬, ২৮, ৪২, ২৭৪, ২৮৪, ৩০৩, ৩২৪, ৩৩৪, ৩৪৪, ৩৪৬ ও ৩৫০ নম্বর দাগে পাঁচ দশমিক ৮০ একর খাস ও দশমিক ৫৮ একর অর্পিত সম্পত্তি এবং নন্দখালী মৌজার ১৭৬, ১৬৯, ২১২, ২৩৬, ২৬৮ ও ২৯৬ নম্বর দাগে ৩ দশমিক ১৮ একর খাস ও প্রায় এক একর অর্পিত সম্পত্তি দখল করে এর অর্ধেক অংশে বিভিন্ন কারখানার জন্য পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা এবং বাকি অংশে রাস্তা তৈরি করে।
এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসে আরও সাড়ে পাঁচ একর খাস ও অর্পিত সম্পত্তির ওপর নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
গতকালের অভিযানে একটি ভেকুর (মাটি কাটার যন্ত্র) সাহায্যে নন্দখালী মৌজায় প্রায় সাড়ে চার একর সরকারি খাস সম্পত্তির ওপর নির্মিত হল-মার্ক রাইট ফ্যাশনস, হল-মার্ক স্টাইল, হল-মার্ক লেবেল, হল-মার্ক পলিব্যাগ এবং দুটি গরুর শেডসহ জেনারেটর ও বয়লার ভবনের আংশিক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কান্দিবৈলারপুর মৌজায় এক একর খাস সম্পত্তির ওপর নির্মিত একটি তিনতলা ভবনের আংশিক এবং একটি ছোট স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, রাইট ফ্যাশনসের আধা পাকা ভবনের উত্তর পাশ থেকে ৭০ ফুট ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই ভবনের পূর্ব পাশে হল-মার্ক স্টাইলের আধা পাকা ভবনের প্রায় ৬০ ফুট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা অংশ হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে।
হল-মার্ক গ্রুপের অবৈধ দখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনতা হাউজিং পরিবেশ রক্ষা ফোরামের সভাপতি অলিজা হাসান বলেন, অভিযানে সরকারি রাস্তার ওপর নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হলেও ওই রাস্তা জনসাধারণ ব্যবহার করতে পারবে কি না, সেটাই বড় কথা। কারণ, উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন স্থাপনার আংশিক দেয়াল ভাঙা হলেও রাস্তাটি ব্যবহারের উপযোগী করা হয়নি। গত বছর অভিযান চালিয়ে যেসব স্থাপনা ভাঙা হয়েছিল, সেসব জমিও এখনো মূলত হল-মার্কের দখলেই রয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তির ওপর নির্মিত হল-মার্ক গ্রুপের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার পর ওই সব সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তা ব্যবহারের উপযোগী করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘নন্দখালী মৌজায় হল-মার্কের দখলে থাকা প্রায় সাড়ে চার একর জমি সরকারিভাবে রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত। আমরা নকশা অনুযায়ী ওই রাস্তার ওপর নির্মিত স্থাপনা ভেঙে দিয়েছি। তবে কান্দিবৈলারপুর মৌজায় কোনো রাস্তা ছিল না।’

শেয়ার করুন