ঋণের সুদহার কমানোর দাবি

0
130
Print Friendly, PDF & Email

ঋণের সুদহার কমাতে দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে আবারও দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সুদহার না কমায় দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে পড়ছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের এ দাবির সঙ্গে একমত ব্যাংকাররাও। তাঁরা মনে করেন, ঋণের সুদহার কমানো প্রয়োজন। তবে রাতারাতি তা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত আমানত পাচ্ছে। কিন্তু এ অর্থ ঋণ হিসেবে দিতে পারছে না। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই সুদহার কমে আসবে।
ব্যাংকের সুদহার ও মাশুল বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব আলোচনাই উঠে এসেছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল সোমবার বিকেলে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন।
সেমিনারে কাজী আকরাম বলেন, বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া আদায় করা হচ্ছে নানা চার্জ। এগুলো সুদহারকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশে এখন আমানত ও ঋণের সুদহারের মধ্যকার ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশ। এটাকে ৩ শতাংশের মধ্যে আনা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়, খেলাপি ঋণ এবং করপোরেট কর কমানো গেলে ব্যবধান কমবে। তখন সুদহারও কমে যাবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, উচ্চ সুদের কারণে ব্যাংকগুলোতে ৭০ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। ঋণ নেওয়ার মতো কেউ নেই। অনেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার এখন ১৩ শতাংশ। কিন্তু আমানতের সুদহার ১১ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হলে মানুষ কেন ব্যাংকে টাকা রাখবে?
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘ঋণের সুদহার কমানো উচিত, সেটা আমরাও মনে করি। কিন্তু জোর করে সুদহার কমানো যাবে না।’
একইভাবে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান রুবেল আজিজ বলেন, ‘সুদহার কমানো উচিত। কিন্তু ব্যাংকাররা চাইলেই এটা কমবে না। দেশে ৫২টা ব্যাংক আছে। আমি কমিয়ে দিলাম। কিন্তু অন্যরা কমালো না। তাহলে তো হবে না।’
ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, ‘আমার জীবনে আমি যত ঘুষ দিয়েছি, তা আমার মূলধনের চেয়েও বেশি হবে। সেই টাকাটা কোথায় গেল? সেটাই আবার এফডিআর হয়ে ব্যাংকে আসছে।’ তিনি আমানতের সুদহার ৭ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার ১১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম ব্যাংকারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অনেক টাকা খরচ করে অফিসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জাঁকজমকভাবে শাখা উদ্বোধন করেন। এসব না করে কিছু ব্যয় কমালেই পরিচালন ব্যয় কমে যাবে। সুদের হার কমে আসবে।’
এম আসলাম আলম বলেন, বাজার অর্থনীতিতে সরকারি নির্দেশনা দিয়ে কোনো কিছু নির্ধারণের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানোর কারণে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো যাচ্ছে না, এটা ঠিক নয়। গত দুই বছর সঞ্চয়পত্রের বিক্রি মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। কিন্তু আপনারা আমানত কিংবা ঋণের সুদহার কমাননি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, খেলাপি ঋণ বেশি হলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে সুদহার কমানো কঠিন। কারণ, তখন তাদের প্রভিশনিং করতে হয়। সুদহার বাড়িয়ে ও চার্জ আরোপ করে মুনাফা করতে হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের সুদহার কমাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মূল্যস্ফীতি কমানো। সরকার এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। আবার বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো সুদহার সরকার নির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ সুদহার বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন