শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি না হলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা হতে পারে

0
97
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম মজুরি পান। আবার তাঁদের উৎপাদনশীলতাও অনেক কম। কিন্তু মজুরি এতটাই কম যে নিম্ন উৎপাদনশীলতা সত্ত্বেও তাঁদের কারণে পোশাকশিল্পে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় অনেক কম হয়।
বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশনপ্রধান রডরিগো কিউবেরো এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই বাস্তবতায় এখন বাংলাদেশের শিল্পশ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে হবে। বিশেষত, রানা প্লাজা ধসে সহ্রসাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ায় শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা অনেক বেশি নজরদারিতে চলে এসেছে।
রডরিগো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে। এ রকম যেকোনো কিছু এড়ানোর জন্য সবাইকে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
ঢাকায় একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) ইন বাংলাদেশ আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় রডরিগো এসব কথা বলেন। এ সভায় তিনি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করেন।
রডরিগো বলেন, তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজারে চীন শীর্ষস্থানে থাকলেও তাদের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ভারতেও শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। আর তাই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য রপ্তানি বাজারে বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
রডরিগো আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্বল্প মেয়াদে বাংলাদেশকে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সময়কালে অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে চাহিদা সংকুচিত হয়ে বিনিয়োগ কমে গেছে। এর ফলে প্রবৃদ্ধিও কমবে। তবে মধ্য মেয়াদে অর্থনীতিতে গতিময়তা ফিরে আসবে বলে উল্লেখ করেন রডরিগো।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যাই থাকুক না কেন, অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাই বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বন্দরের দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ছাড়া বিনিয়োগ আশা করা যায় না।
অ্যামচেমের সভাপতি আফতাব-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত ভাষণ দেন অ্যামচেমের নির্বাহী পরিচালক এ গফুর।

শেয়ার করুন