ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় হবে

0
45
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি (বন্দিবিনিময় চুক্তি) অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ অনুমতিক্রমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে বন্দিবিনিময় করতে পারবে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের মন্ত্রিসভা আগেই এ চুক্তিতে অনুসমর্থন দিয়েছে। এর অনুলিপি হস্তান্তর হলেই চুক্তি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা মনে করছে এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর বিদেশে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কোনো খুনি যদি ভারতে লুকিয়ে থাকে, তাহলে ওই অপরাধীকে ফিরিয়ে আনার জন্য এটি হবে একটি বড় উদ্যোগ। তবে যদি কোনো অপরাধী রাজনৈতিক কারণে লুকিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে এক দেশ আরেক দেশকে বন্দী নাও দিতে পারে। প্রস্তাবে এ রকম একটি বিধানও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই চুক্তির ফলে দুই দেশ এক বছরের বেশি মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের বিনিময় করতে পারবে। যে কেউ ছয় মাসের নোটিশে এ চুক্তি বাতিল করতে পারবে।

সূত্রমতে, এই চুক্তির ফলে উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি হলো। ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বন্দিবিনিময় চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় এত দিন তাঁকে ফেরত পায়নি ভারত। এ ছাড়া চুক্তির ফলে বাংলাদেশও সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনের মতো পলাতক সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাবে। সুব্রত বাইন কলকাতায় এবং সাজ্জাদ তিহার কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে বন্দিবিনিময়ে ‘বহিঃসমর্পণ চুক্তির’ আওতায় এই তিনজনের হস্তান্তর শিগগিরই করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

শেয়ার করুন