তৃতীয় বিকল্প রাজনৈতিক জোট আসছে নভেম্বরে

0
32
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় ধারার বিকল্প একটি রাজনৈতিক শক্তি বা জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১ নভেম্বরে। ওইদিন একটি কনভেনশনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে। প্রাথমিকভাবে এ জোটে থাকবে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমীক জনতা লীগ, আসম রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
জানা গেছে, তৃতীয় ধারার বিকল্প এ জোট আপাতত সরকারি কিংবা বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটেই যোগ দেবে না। তবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের মতো কিছু ইস্যুতে বিরোধী দলের দাবির সঙ্গে এ দলগুলো একমত। ফলে এসব ইস্যুতে আন্দোলনে বিরোধী দলকে তারা সমর্থন দিতে পারে। নতুন জোটে বামপন্থী দলগুলোর পাশাপাশি দেশের বুদ্ধিজীবী তথা সুশীল সমাজকে একীভূত হওয়ার ডাক দেয়া হবে।
জানতে চাইলে আসম রব, কাদের সিদ্দিকী এবং মাহমুদুর রহমান মান্না এই তিনজনই নভেম্বরের কোনো এক সময়ে তৃতীয় ধারার জোট গঠনের এ উদ্যোগের কথা স্বীকার করেন। তবে ওই জোটের নাম কী হবে তা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি বলে তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়।
আসম রব বলেন, প্রথমে পাঁচটি দল নিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু হলেও আমাদের মূল লক্ষ্য হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বৃহত্তর একটি জোট গঠন করা। তাই সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল; পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীরাও এতে শামিল হতে পারবেন। তাই এ জোটের নাম কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অদলীয় বা যুক্তফ্রন্টও হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই জোটকে ‘বিকল্প শক্তি’ অভিহিত করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ১০ বছর ধরে জেএসডির সঙ্গে কাজ করছি, তাদের সঙ্গে মিল আছে। গত ১০ জুলাই বিকল্প ধারার সঙ্গে বসেছি। ড. কামাল হোসেন একজন প্রবীণ মানুষ, তার সঙ্গেও চলার চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে একটি উদ্যোগ চলছে। তবে এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বা ঘোষণার সময় এখনও ঠিক হয়নি।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ডিক্টেটরের মতো আচরণ করছে। অথচ বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে জনগণের দাবির সমর্থনে আন্দোলন গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে বিরোধী দল পেছনে পড়ে আছে। তেলের কিংবা পেঁয়াজের উচ্চ মূল্য নিয়ে তারা কথা বলেন না। এসব কারণে যুগপৎ আন্দোলনের সুযোগ এখনও তৈরি হয়নি। পাশাপাশি এটাও ঠিক; বিরোধী দলের মতো আমরাও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। সুতরাং এক্ষেত্রে তাদের দাবির সঙ্গে মিল রয়েছে। তাই সব মিলিয়ে কী দাঁড়ায় তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, আগামী নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে যে সংকট চলছে তা সমাধানে যৌথ প্রয়াস দরকার। এজন্যই আমরা জাতীয় ঐক্যের কথা বলছি; যেখানে দুই দলের বাইরে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে আমরা একত্রিত করতে চাই। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ উদ্যোগে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে কনভেনশনের আগে এর নাম কী হবে তা বলা যায় না।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হরতাল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং হেফাজতের ১১ দফার মতো ইস্যুতে ১৮ দলের সঙ্গে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। তাই ওই জোটের কোর্স বা কর্মসূচি আমরা অনুসরণ করব না। তবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন এবং দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত পোষণ করি। ফলে ওই ইস্যুতে তাদের সমর্থন দেব কিনা তা সময়ই বলে দেবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, তৃতীয় ধারার জোট গঠনের এই উদ্যোগ এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। কনভেনশনের ঘোষণাপত্র নিয়ে কাজ চলছে। এজন্য দফায় দফায় বৈঠক চলছে দলগুলোর মধ্যে। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকার গঠনে কিভাবে ভূমিকা রাখা যায় তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সূত্র মতে, বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে মিল-অমিলের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়টি আলোচনায় উঠছে সবচেয়ে বেশি। তবে এ প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলগুলোর অভ্যন্তরেও; যেমন বিকল্প ধারা এবং গণফোরামের একাংশে বিএনপির আন্দোলনকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে বিরোধিতা আছে।
ঘোষণাপত্রে যা থাকতে পারে : ঘোষণাপত্রে তৃতীয় ধারার রাজনৈতিক শক্তি ও জোট গঠনের কথা বলা হবে। বলা হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চকক্ষের হাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা প্রদানের দাবি। থাকবে বাংলাদেশকে ৯টি প্রদেশে রূপান্তর করারও ঘোষণাও। এছাড়া স্বশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের কর্মসূচি থাকবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে ও তা পুনর্গঠনের দাবিও থাকবে যৌথ ঘোষণাপত্রে। এছাড়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার সংবলিত ঘোষণাও থাকবে।

শেয়ার করুন