অধ্যাদেশ বিতর্কে রাহুলেরই জয়

0
62
Print Friendly, PDF & Email

জিত হলো রাহুল গান্ধীর। অপরাধী সাংসদ-বিধায়কদের উচ্চতর আদালতে আপিল সাপেক্ষে ক্ষমতায় রেখে দিতে জারি করা অধ্যাদেশ ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সেই সঙ্গে এই মর্মে রাজ্যসভায় আনা বিলটিও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাঁচ দিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটল গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সংক্ষিপ্ত বৈঠকে। ঠিক হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বিলটি ফেরত আনার পাশাপাশি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে জানানো হবে, পেশ হওয়া বিলটিও সরকারও প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এসবের আভাস অবশ্য মিলেছিল কয়দিন আগেই।
গত জুলাই মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি জনস্বার্থ মামলার রায় দিয়ে জানান, ভারতীয় গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(৪) ধারাটি অসাংবিধানিক। সেই ধারা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেন। ওই ধারায় বলা আছে, কোনো এমপি, এমএলএ বা এমএলসির কোনো মামলায় দুই বছরের বেশি শাস্তি হলে উচ্চতর আদালতে আপিল সাপেক্ষে এবং সেই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত তাঁরা সদস্যপদে বহাল থাকতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে, দুই বা তার বেশি বছরের সাজা হলে সাংসদ বা বিধায়কেরা সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের সদস্যপদ হারাবেন। এই রায়ের ফলে কংগ্রেসের সাংসদ রশিদ মাসুদ ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সভাপতি লোকসভার সদস্য লালু প্রসাদ তাঁদের সদস্যপদ হারাচ্ছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শুক্রবার। দিল্লির প্রেসক্লাবে আচমকা হাজির হয়ে রাহুল গান্ধী নেতা বাঁচানো এই অধ্যাদেশকে ‘ফালতু’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটা ‘ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া উচিত’। মন্তব্যটি তাঁর ‘ব্যক্তিগত অভিমত’ বলে জানালেও রাহুল তখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে চিঠি লিখে তাঁর আপত্তির দিকটি ব্যাখ্যা করেন। রাহুলের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়। বিদেশে সফররত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেও তা চূড়ান্ত অসম্মানজনক হয়ে দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পথে সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি।
মনমোহন গত মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরে গতকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং এ ব্যস্ততা ছিল অধ্যাদেশকে ঘিরেই। সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাহুল তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের পক্ষে তাঁর যুক্তি দেখান। প্রধানমন্ত্রীও রাহুলকে বলেন, অধ্যাদেশটি অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা নয়। তিনি এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করেন। তবে রাহুল মনমোহনকে বলেন, উদ্দেশ্য যা-ই থাকুক, দেশের সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে না। তারা মনে করছে এই অধ্যাদেশ এনে দাগি অপরাধীদের রক্ষা করা হচ্ছে।
রাহুলের সঙ্গে মনমোহনের আলোচনার পরপরই কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান। কোর কমিটি রাহুলের মতের পক্ষে রায় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলে, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি প্রত্যাহার করে নেওয়াই ঠিক হবে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী চলে যান রাষ্ট্রপতির ভবনে। স সন্ধ্যায় বসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মনিশ তিওয়ারি সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন